back to top

জিইএমকোতে ১৫ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ!

নীতিমালা লঙ্ঘনের প্রশ্ন-ক্ষতির আশঙ্কা শ্রমিকদের

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ০৯:৩৬

রাষ্ট্রায়ত্ত জেনারেল ইলেকট্রিক ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড (জিইএমকো)-এ দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ স্ক্র্যাপ বিক্রিকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ।

প্রায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের ৪৬৫টি অকেজো মেশিনারিজ ও লৌহজাতীয় স্ক্র্যাপ মাত্র তিন কোটি টাকায় বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টেন্ডার ছাড়াই এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) নীতিমালা উপেক্ষা করে এই বিক্রির চেষ্টা চলছে।

এমন অভিযোগে প্রতিষ্ঠানজুড়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ, অসন্তোষ ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সুশাসন।

সূত্র জানায়, কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা অকেজো যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ব্যবহার অনুপযোগী মালামাল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) ব্যবহার করে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্ক্র্যাপ বিক্রির ক্ষেত্রে এ ধরনের পদ্ধতির সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সাধারণত উন্মুক্ত দরপত্র বা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য যাচাইয়ের মাধ্যমে এসব সম্পদ বিক্রির নিয়ম থাকলেও এবার সেই স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি)-এর নির্ধারিত নীতিমালা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেই নীতিমালা পাশ কাটিয়ে কম মূল্যে স্ক্র্যাপ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় জিইএমকোর শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন সরাসরি আপত্তি জানিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

তাদের অভিযোগপত্রে বলা হয়, নীতিমালা লঙ্ঘনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ বিক্রি করা হলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও স্বচ্ছতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

জানা গেছে, জিইএমকোতে স্ক্র্যাপ বিক্রির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। কমিটির সভাপতি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রেজাউল ইসলাম।

কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপমহাব্যবস্থাপক ও বাণিজ্যিক বিভাগীয় প্রধান হুমায়ুন কবির, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রাণজিত পাল, উপপ্রধান প্রকৌশলী ও উৎপাদন বিভাগীয় প্রধান হায়াত মাহমুদ, বিএসইসির বিপণন বিভাগের ব্যবস্থাপক নূরে আলম আজরফ এবং ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জুহিরুল হক। সূত্র-যুগান্তর

শ্রমিক নেতারা বলছেন, মূল্যবান এসব স্ক্র্যাপ কম দামে এবং নিয়মের বাইরে বিক্রি হলে প্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি অনিবার্য।

এতে শুধু প্রতিষ্ঠান নয়, রাষ্ট্রও বিপুল রাজস্ব হারাবে বলে তাদের আশঙ্কা। একই সঙ্গে বিষয়টি ঘিরে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

জিইএমকোর কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “বিএসইসির নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসব স্ক্র্যাপ বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে।

কী কারণে টেন্ডার ছাড়া করা হচ্ছে, তা আমাদের জানা নেই। আমরা বিষয়টি লিখিতভাবে বিএসইসিকে জানিয়েছি।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে জিইএমকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করে সংবাদটি আংশিক পরিবর্তন করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি