চট্টগ্রাম নগরীতে গতকাল শনিবার যেন ভিন্ন এক ঈদবাজারের দেখা মিলল। এখানে ছিল না দরকষাকষি, ছিল না লজ্জা বা করুণার দৃষ্টি। বরং ছিল সম্মানের সঙ্গে নিজের প্রয়োজনীয় জিনিস বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা।
“দান নয়, সম্মানের অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আয়োজন করে ‘১ টাকায় কুরবানির বাজার’।
এই বাজার থেকে নগরীর পাঁচ শতাধিক ছিন্নমূল ও দরিদ্র পরিবার নামমাত্র মূল্যে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় পণ্য কিনেছেন। প্রতিটি পরিবার পেয়েছে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার সমমূল্যের বাজার।
সকাল ১১টায় এই ব্যতিক্রমী ‘গরিবের সুপারশপ’ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চাল, ডাল, চিনি, সুজি, ডিম, তেল, কাপড়, ব্যাগসহ প্রায় ১৭ ধরনের পণ্যে সাজানো হয়েছিল পুরো সুপারশপ।
দোকানের তাকজুড়ে সাজানো পণ্য দেখে প্রথমে বোঝার উপায় ছিল না—এটি কোনো দাতব্য আয়োজন।
এখানে ১ টাকায় পাওয়া গেছে ১ কেজি চাল, ১ কেজি সুজি কিংবা চার প্যাকেট নুডলস। আবার ৩ টাকায় মিলেছে ১ লিটার তেল।
প্রতিটি পরিবারকে দেওয়া হয় ১০ টাকার ডামি কয়েন। সেই কয়েন ব্যবহার করে তাঁরা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য কিনেছেন।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ছিল আয়োজনের মানবিক দিকটি। কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে সাহায্য নেননি; বরং একজন সাধারণ ক্রেতার মতো দোকানে ঘুরে নিজের পছন্দের পণ্য নির্বাচন করেছেন। অনেকের চোখেমুখে ছিল স্বস্তি আর আত্মমর্যাদা রক্ষার নীরব তৃপ্তি।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, অভাবী মানুষের কাছেও ঈদের আনন্দ সম্মানের সঙ্গে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “দরিদ্র মানুষদের নাগরিক সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে সাহায্য করার যে অভিনব পদ্ধতি বিদ্যানন্দ চালু করেছে, সেটার জন্য তারা ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।
অর্থনৈতিক মন্দার এই সময়ে ঈদ পালনের জন্য তারা যেভাবে অভাবী মানুষের পাশে নামমাত্র মূল্যে খাদ্যসামগ্রী ও নতুন কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটার জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আশা করছি, বিদ্যানন্দের এই যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা চাই না কেউ সাহায্য নিতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করুক। ঈদ সবার জন্য আনন্দের—এই আনন্দ যেন সম্মানের সঙ্গে প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
মানবিকতার এই আয়োজন যেন মনে করিয়ে দিল—সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও একটি সুন্দর ভাষা আছে। যেখানে করুণা নয়, মানুষ পায় মর্যাদা; আর দানের বদলে জিতে নেয় নিজের সম্মানের অধিকার।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



