back to top

ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ-উত্তেজনা, পুলিশের জলকামান ও টিয়ারশেল

প্রকাশিত: ০১ জুন, ২০২৬ ১৪:৫৫

ঢাকার মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোমবার (১ জুন) উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

সকাল থেকে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে শত শত মানুষ ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।

এতে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেকে আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি।

ঘটনার পর দিলকুশা এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। অফিসগামীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্ব পালনকারী মো. খুরশীদ আলমকে সম্প্রতি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়োগের বিরোধিতা করেই তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

এদিকে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর পুলিশের গুলি চালানো, লাঠিচার্জ, টিয়ারগ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার এক বিবৃতিতে দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে সাধারণ গ্রাহকরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। ব্যাংকের আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার দাবিতে তারা সেখানে অংশ নেন।

বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং জলকামান ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে।

একপর্যায়ে গুলি চালানো হলে বহু আমানতকারী আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ ও দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ অনভিপ্রেত। তিনি এ ঘটনাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে উল্লেখ করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছিল, সে প্রেক্ষাপটে গ্রাহকদের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, গ্রাহকরা মনে করেন নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর।

তাঁকে ওই পদে বহাল রাখা হলে ব্যাংকটি আবারও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, নিজের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো এবং ব্যাংকের সুশাসনের পক্ষে কথা বলা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক নিরসন এবং আমানতকারী ও গ্রাহকদের উদ্বেগ দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

তবে ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশ ও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি