back to top

মাত্র পাঁচ শুনানিতে বিচার শেষ, রামিসা হত্যাকাণ্ডে সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬ ০৮:১৪

দেশজুড়ে আলোচিত আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

রায়ে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বহুল আলোচিত এই মামলায় অপরাধ সংঘটনের মাত্র ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা হওয়ায় বিচারাঙ্গনে এটি একটি ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

রোববার বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ।

রায় ঘোষণার আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৩১ বছর বয়সী সোহেল রানা এবং ২৬ বছর বয়সী স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়।

প্রথমে তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয় এবং পরে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়।

দেশব্যাপী ব্যাপক জনরোষ, সামাজিক উদ্বেগ এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাসের প্রেক্ষাপটে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।

ট্রাইব্যুনাল মাত্র পাঁচটি শুনানিতে বিচার শেষ করেন। গত ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়, পরদিনই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সাক্ষীদের জবানবন্দির মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়।

অন্যদিকে আসামিপক্ষ সাজা কমানোর আবেদন জানিয়ে যুক্তি দেয় যে, চার্জশিট প্রধান আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর নির্ভরশীল এবং হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত কথিত অস্ত্রের ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি।

তবে আদালত মামলার সামগ্রিক সাক্ষ্য, আলামত, তদন্ত প্রতিবেদন ও আইনগত উপস্থাপন বিবেচনা করে রায় প্রদান করেন।

আইনজীবীদের মতে, বাংলাদেশে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক ইতিহাসে এত স্বল্প সময়ে তদন্ত, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার ঘটনা অত্যন্ত বিরল।

গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় প্রতিবেশী সোহেল রানার ঘর থেকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা, স্বপ্না খাতুন এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সোহেল রামিসাকে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

তদন্তকারীদের ভাষ্যমতে, পরে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করা হয় এবং অপরাধের আলামত গোপন করতে মরদেহ টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়।

তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও আলামত নষ্টের অভিযোগ আনা হয়। অন্যদিকে স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আলামত নষ্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়।

চার্জশিট দাখিলের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালত বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ড শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার সক্ষমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হয়ে থাকল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি