back to top

বাকলিয়ার সেই শিশুর জন্য দ্রুত বিচার, অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণ কাল

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬ ১৫:১১

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।

ঘটনার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। আদালত আগামী বুধবার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।

আদালত সূত্র জানায়, শুনানি শুরুর সময় আসামি নিজের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগের জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ চান। আদালত তাকে এক ঘণ্টা সময় দেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা গত বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরে মামলাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

অভিযোগপত্র গ্রহণের এক দিনের মধ্যেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়েছে। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্বল্প ব্যবধানে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযোগের সমর্থন পাওয়া গেছে।

এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মামলার নথি বলছে, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামকক্ষে শিশুটির ওপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

ঘটনার পরদিন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মনির হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অন্যদিকে শিশুটির বক্তব্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়।

এই মামলাটি শুধু একটি ফৌজদারি বিচার নয়; এটি শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার গতিও সামনে নিয়ে এসেছে।

অভিযোগ গঠনের পর এখন নজর থাকবে সাক্ষ্যগ্রহণ ও পরবর্তী বিচারিক ধাপগুলোর দিকে।

এদিকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানায়, থানায় নেওয়ার পথে একদল ব্যক্তি বাধা দেয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।

এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন। কয়েকটি পুলিশবাহী গাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

পরে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথক একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।