রেলের জলাশয় ভরাট করে দোকান বানানোর পাঁয়তারা-ফুঁসে উঠছে এলাকা!

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ২০:২৫

রেলওয়ের অধিগ্রহণকৃত একটি জলাশয় ভরাট করে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে ফেনীর পরশুরামের এক প্রভাবশালী ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

সরকারি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তনের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম তাজুল ইসলাম। তিনি পরশুরাম উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে।

জলাশয় দখল ও শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পরশুরাম থানায় ডাকযোগে লিখিত এজাহার পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম রেলওয়ের অধীন ৩১ নম্বর ফেনী কাচারী।

স্থানীয় ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরশুরামের কোলাপাড়া এলাকায় রুহুল আমিন মজুমদার বাড়ির সামনে এবং রেললাইনের পশ্চিম পাশে কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের প্রায় ০.২৩ একর আয়তনের একটি লাইসেন্সকৃত জলাশয় রয়েছে।

গত ১৫ জুলাই থেকে সেখানে আচমকা এক্সকেভেটর (ভেকু) বসিয়ে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করা হয়।

খবর পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে মৌখিকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। তবে কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশ তোয়াক্কা না করেই ভরাট কাজ চালিয়ে যান অভিযুক্ত ঠিকাদার।

রেলওয়ে সূত্রের দাবি, জলাশয়টির স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট করে সেখানে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক দোকানঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।

সরকারি সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ দখল ঠেকাতেই গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) পরশুরাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে ডাকযোগে এজাহার পাঠিয়েছেন ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী।

জলাশয় দখলের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরশুরামের সচেতন নাগরিকদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম অসন্তোষ।

স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হুদা ও আবদুল মতিন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে এই জলাশয়টি এলাকার পরিবেশ রক্ষা এবং বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এটি ভরাট হয়ে গেলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হবে।

প্রশাসনের চোখের সামনে সরকারি সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম দেখে দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন তারা।

শুধু জমি দখলই নয়, অভিযুক্ত ঠিকাদারের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত দিনে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ ও বরাদ্দের অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালের সাম্প্রতিক বন্যার পর বাঁধ সংস্কারসহ নানা প্রকল্পে তাঁর কাজের মান এবং উত্তোলিত বিলের হিসাব নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার জোর দাবি উঠেছে।

পাশাপাশি তাঁর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির কার্যকর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

জলাশয় ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ঠিকাদার তাজুল ইসলাম দাবি করেন, কৃষি চাষাবাদের জন্য জমিটি রেলওয়ে থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে এবং গত ৪০ বছর ধরে আমরা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি।

ইজারা নেওয়া জমি হওয়ায় মাটি ভরাটের জন্য আলাদা কোনো অনুমতির প্রয়োজন মনে করিনি।

এ বিষয়ে ফেনী কাচারীর আমিন মো. সলিম উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ৩০ জুলাই ডাকযোগে পরশুরাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তা পৌঁছানোর কথা।

অন্যদিকে পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, এখনো সরাসরি কোনো লিখিত অভিযোগ আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। অভিযোগপত্রটি হাতে পেলেই আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি