হাতের মেহেদির রঙ তখনও হয়তো পুরোপুরি ফিকে হয়নি। মাত্র ৪০ দিন আগে বুকভরা নতুন স্বপ্ন নিয়ে প্রিয়জনের হাত ধরে নতুন সংসারে পা রেখেছিলেন ১৮ বছরের তরুণী রহিমা বেগম।
কিন্তু কে জানত, একটি সাধারণ রূপচর্চা কিংবা দৈনন্দিন রান্নার আয়োজনের ভেতরেই ওত পেতে ছিল নির্মম নিয়তি?
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার ময়নার বাপের পাহাড় এলাকায় মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় ঘটে যায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।
রান্নার জন্য লাকড়ি তুলতে গিয়ে বিষধর সাপের ছোবলে করুণ মৃত্যু হয়েছে ওই এলাকার মো. অহিদুল্লাহর নবপরিণীত স্ত্রী রহিমা বেগমের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো সান্ধ্যকালীন রান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রহিমা।
ঘরকন্যার কাজ গোছাতে ঘরের পাশে জমিয়ে রাখা লাকড়ির স্তূপ থেকে কাঠ আনতে যান তিনি। কিন্তু কাঠ সরানোর মুহূর্তেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বিষধর একটি সাপ তাঁর শরীরে সজোরে ছোবল বসায়।
ছোবলের পর পরই তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করে ওঠেন রহিমা। কোনোমতে যন্ত্রণা সহ্য করে ছুটে এসে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দমুখর পরিবারটিতে নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া।
নিহতের স্বামী অহিদুল্লাহর ভাই সেলিমুল্লাহ জানান, রহিমা রান্নার জন্য লাকড়ি আনতে ঘরের পাশের স্তূপে যায়। সেখানেই বিষধর সাপ তাকে ছোবল দেয়। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে সে ঘরের সবাইকে বিষয়টি জানায়।
যন্ত্রণাকাতর চিৎকার শুনে স্বজনরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দোহাজারী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সাপের তীব্র বিষ ততক্ষণে ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো শরীরে।
দোহাজারী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. টিপু মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাত সাড়ে ৭টার দিকে রহিমা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে চিকিৎসকদের কোনো কিছু করার আগেই, অর্থাৎ হাসপাতালে পৌঁছানোর পূর্বেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
মাত্র ৪০ দিন আগের কথা-যে ঘরে নতুন কনে হিসেবে বধূবেশে পা রেখেছিলেন রহিমা, সেখানে আজ শুধুই কান্নার রোল।
যে লাকড়ির আগুনে ঘর উজ্জ্বল হওয়ার কথা ছিল, সেই লাকড়ির স্তূপেই যেন ছাই হয়ে গেল ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীর সাজানো জীবনের সব স্বপ্ন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু পরিবারটিই নয়, পুরো ময়নার বাপের পাহাড় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

