back to top

লোহাগাড়ায় খেলার আবেগে সংঘর্ষ, সংলাপে মিলল সমাধান

ফুটবলপ্রেমের উৎসবেই উত্তেজনা

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬ ১৫:৩১

বিশ্ব ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো চট্টগ্রামের লোহাগাড়াতেও চলছে সমর্থকদের উৎসবমুখর প্রস্তুতি।

তবে সেই ফুটবল উন্মাদনাই সোমবার (৮ জুন) উপজেলার সদর ইউনিয়নের কালোয়ারপাড়া এলাকায় সাময়িক উত্তেজনার জন্ম দেয়।

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের চারজন আহত হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এলাকায় বিভিন্ন স্থানে প্রিয় দলের পতাকা ও ব্যানার টানানো হয়। এরই মধ্যে ব্রাজিল সমর্থকদের একটি ব্যানারে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির ব্যঙ্গাত্মক ছবি ব্যবহার করা হয়।

বিষয়টি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের কাছে আপত্তিকর মনে হওয়ায় তারা ব্যানারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়ায় রোববার গভীর রাতে ব্যানারটি নামিয়ে ফেলা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। সোমবার দুপুরে সেই উত্তেজনা কথা-কাটাকাটির মধ্য দিয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে আবুল কাশেম, তৌহিদ, জিসান ও বশির উদ্দিন নামে চারজন আহত হন। তবে তাদের কেউ গুরুতর আহত নন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়। লোহাগাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এ টি এম জাহেদ চৌধুরীর মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।

পরে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হয়। ভবিষ্যতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার, পোস্টার বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আশ্বাসও দেন সমর্থকেরা।

এ বিষয়ে জাহেদ চৌধুরী বলেন, মেসির ছবি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। পরে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল্লাহ জানান, ব্যানারকে কেন্দ্র করে হাতাহাতির খবর পুলিশ পেয়েছে।

তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে।

বিশ্বকাপ উপলক্ষে যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল একটি খেলা নয়; এটি কোটি মানুষের আবেগ, আনন্দ ও উৎসবের উপলক্ষ।

সেই আবেগ যেন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে, বিভেদের কারণ না হয়—লোহাগাড়ার এ ঘটনা যেন সেই বার্তাই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।