খেলার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে, গোলপোস্টের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

প্রকাশিত: ০১ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩২

ফুটবল ছিল তার প্রিয় খেলা। বন্ধুদের সঙ্গে টার্ফে খেলতে গিয়ে গোলপোস্টে ঝুলে একটু দুষ্টুমি করার চেষ্টা। কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্তই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয় বিভীষিকায়।

হঠাৎ ভেঙে মাথার ওপর আছড়ে পড়ে লোহার গোলপোস্ট। গুরুতর আহত অবস্থায় শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই।

চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত হার মানল ১১ বছরের ছোট্ট এনায়েত।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ (১১)

নিহত এনায়েত উল্লাহ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সতিপাড়ার বাসিন্দা দর্জি বাদশা আলমের ছেলে।

সে সাতকানিয়া টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে ডলু ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি টার্ফে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলছিল এনায়েত।

খেলার একপর্যায়ে সে গোলপোস্টে ঝুলে থাকার চেষ্টা করলে লোহার গোলপোস্টটি হঠাৎ ভেঙে তার মাথার ওপর পড়ে যায়। এতে সে গুরুতর আহত হয়।

স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা চললেও চার দিন পর মঙ্গলবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

এনায়েতের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া টাউন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন।

তিনি বলেন, এনায়েত তাদের বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর চার দিন চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়েছে।

শিশুটির মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। যে সন্তান প্রতিদিন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যেত, বিকেলে ছুটে যেত খেলার মাঠে, সেই সন্তান আর কোনো দিন ঘরে ফিরবে না—এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।

বিদ্যালয়েও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যেও বিরাজ করছে গভীর বেদনা।

এদিকে, খেলার মাঠে স্থাপিত লোহার গোলপোস্টের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, শিশুদের ব্যবহারের জন্য নির্মিত টার্ফ ও খেলার সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।

একটি অবহেলা যেন আর কোনো পরিবারের হাসি কেড়ে নিতে না পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি