মঞ্চের আলোয় তখন একঝাঁক তরুণ-তরুণীর চোখমুখ উজ্জ্বল। কেউ বুয়েটের ভবিষ্যৎ প্রকৌশলী, কেউ মেডিকেলের হবু ডাক্তার, আবার কেউ বা মাদ্রাসা কিংবা স্কুলের উদীয়মান শিক্ষার্থী।
তাঁদের সবার পারিবারিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আজ তাঁরা এক সুতোয় বাঁধা পড়েছেন। তাঁদের এই স্বপ্নের সারথি হয়েছে “এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট”।
বিশ্বসমাদৃত ‘ত্বরিকা-ই- মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তক আওলাদে রাসুল (দ.) গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে দশটায় এক অনন্য উৎসবের আমেজ বসেছিল চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ৮ম তলার “জুলাই বিপ্লব স্মৃতি” হলে।
ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষা প্রকল্প ‘শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) বৃত্তি তহবিল’ আয়োজন করেছিল ২০২৫ পর্বের তৃতীয় ধাপের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানের।
এবারের ধাপে বুয়েট, মেডিকেল, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল ও মাদ্্রাসার মোট ২৩৬ জন দরিদ্র, মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মোট ১২ লাখ ৩৮ হাজার টাকার বৃত্তির অর্থ। যা এসব শিক্ষার্থীর আগামীর পথচলাকে আরও মসৃণ করবে।
বৃত্তি তহবিলের সদস্য আবু সালেহ সুমনের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এবং ট্রাস্টের সচিব এ ওয়াই এমডি জাফর’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দিতে উপস্থিত ছিলেন-বেসরকারি কারা পরিদর্শক জাফর আহমদ, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম, বিশিষ্ট সমাজসেবক সৈয়দ শিহাব উদ্দিন আলম ও শিশু-কিশোর সমাবেশ আয়োজক কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এইচ এম রাশেদ খান।
প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ বলেন, “শাহানশাহ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্ট হলো একটা রুহানী ট্রাস্ট। তাই এখান থেকে বৃত্তি পাওয়া খুবই ভাগ্যের ব্যাপার।
এই ট্রাস্ট শিক্ষিত জাতি তৈরি, জনগণের সেবা, মানব সেবা, সমাজের উন্নয়ন এবং মানুষের উপকারে কাজ করে যাচ্ছে।”
উল্লেখ্য, এই মহতী উদ্যোগটি কেবল এই এক ধাপেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
প্রথম ধাপে: দক্ষিণ চট্টগ্রামের ০৮টি উপজেলা (আনোয়ারা, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া এবং কর্ণফুলী)’র ৫ম শ্রেণীর সমমানের মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আট শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর মধ্য থেকে ৫ জনকে ট্যালেন্টপুলে এবং প্রতি উপজেলায় অনধিক ৩ জন করে সাধারণ বৃত্তি প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় ধাপে: দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪৪ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীসহ মোট ৭০ জন মেধাবীর মাঝে ২ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।
তৃতীয় ধাপে: আজ তার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল দেশের সেরা বিদ্যাপীঠগুলোর ২৩৬ জন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের সারথি হওয়ার মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে তেলাওয়াত করেন মাদ্রাসায়ে গাউসুল আজম মাইজভাণ্ডারীর শিক্ষার্থী হাফেজ মুহাম্মদ জুনায়েদ।
এরপর হৃদয়স্পর্শী নাতে মোস্তফা (দ.) ও ঐতিহ্যবাহী মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করেন হাফেজ আরমান হোসেন।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী আবদুল জলিল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এসজেডএইচএম বৃত্তি তহবিলের সভাপতি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ট্রাস্টের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা একদিন সুশিক্ষিত হয়ে দেশের হাল ধরবেন।
আগামীর একটি সুষম ও সাম্যবাদী সমাজ গঠনে এই তরুণরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের। বৃত্তির অর্থ হাতে নিয়ে ফেরার সময় শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ছিল কেবলই কৃতজ্ঞতা আর দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

