সীতাকুণ্ডের উপকূল একসময় দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ছিল। সেই শিপ রিসাইক্লিং (জাহাজ ভাঙা) শিল্পের মরচে পড়া গৌরবকে আবারও উজ্জ্বল করতে চায় সরকার।
আর এই যাত্রায় ব্যবসায়ীদের পথে কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি প্রতিবন্ধকতা সহ্য করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ সোমবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ঐতিহ্যবাহী পিএইচপি শিপ ব্রেকিং এন্ড রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ, আরব শিপ ব্রেকিং এন্ড রিসাইক্লিং লিমিটেড এবং এস এন কর্পোরেশন পরিদর্শনে যান মন্ত্রী।
ইয়ার্ডগুলোর কর্মব্যস্ততা ও বিশাল আকৃতির জাহাজগুলোর পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “দেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের পূর্বের গৌরব পুনরুদ্ধারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার।”
তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন যে, এই সম্ভাবনাময় শিল্পের উদ্যোক্তারা যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা বা হয়রানির সম্মুখীন না হন, সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববাজারে টিকে থাকতে হলে পরিবেশবান্ধব টেকসই রূপান্তরের বিকল্প নেই। বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “শিপ ব্রেকিং শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই ‘গ্রিন লাইসেন্স’ গ্রহণ করতে হবে।”
পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে এই শিল্পকে আরও মানবিক ও আধুনিক করা যায়, সে লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের নীতিগত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
দেশের শিল্প খাতের সবচেয়ে বড় ক্ষত-জ্বালানি সংকট নিয়েও আজ খোলামেলা কথা বলেছেন মন্ত্রী।
সংকটের গভীরতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ”শিল্প-কারখানায় জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার একটি ‘ক্র্যাশ কর্মসূচি’ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।”
তবে দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই সমস্যা যে এক ফুঁৎকারে সমাধান সম্ভব নয়, তা-ও মনে করিয়ে দেন তিনি। মন্ত্রীর ভাষায়, “এ সংকট দীর্ঘদিনের, তাই রাতারাতি তা সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সংকট সমাধানে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।”
মন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট শিপ রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ নির্বাহী ও কর্মকর্তারা।
উদ্যোক্তারা মনে করছেন, মন্ত্রীর এই সশরীরে পরিদর্শন এবং গ্রিন লাইসেন্সের মতো বৈশ্বিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার তাগিদ দেশের ঝিমিয়ে পড়া জাহাজ ভাঙা শিল্পে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।
বাধা পেরিয়ে সীতাকুণ্ডের উপকূল আবার ঘুরে দাঁড়াবে, এমনটাই এখন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

