ঋণখেলাপির প্রার্থিতা বাতিল: বিএসবিআরএ’র নতুন সারথী মহসিন-সেলিম

সামনে গ্রিন ইয়ার্ডের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৫

নগরীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলের সম্মেলন কক্ষে সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

দীর্ঘদিন পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাত ‘বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ)’-এর ভোটগ্রহণ ঘিরে জমে উঠেছিল এই আয়োজন।

৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ৭১ জনই সশরীরে এসে ব্যালটে নিজেদের রায় দিয়েছেন। আর এই ভোটের মধ্য দিয়েই দেশের জাহাজ পুনরুৎপাদন শিল্প পেল আগামী দিনের নতুন নেতৃত্ব।

শনিবার বিকেলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন বিএসবিআরএ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শীর্ষ দুই পদ

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল শীর্ষ দুই পদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া। সভাপতি পদে পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী এবং সিনিয়র সহসভাপতি পদে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন বোর্ড জানিয়েছে, সভাপতি পদে আমজাদ হোসেন নামের একজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও ঋণখেলাপির দায়ে তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। ফলে একক প্রার্থী হিসেবে মহসিন চৌধুরী শীর্ষ পদে আসীন হন।

তবে শীর্ষ দুই পদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিষ্পত্তি হলেও সহসভাপতি ও নির্বাহী সদস্য পদগুলোতে ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

দুটি সহসভাপতি পদের জন্য লড়াই করেছেন ৩ জন এবং ৭টি সাধারণ সদস্য পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৯ জন।

ভোটারদের সরাসরি ভোটে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. নুর উদ্দিন ও গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।

এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত ৭ জন হলেন— মো. জাহিদুল হক, মো. তসলিম উদ্দিন, এস এম নুরুন্নবী, মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, উবায়দা আসাদী, হোসাইনুল আরেফিন ও এ কে এম সাইফুল্লাহ সাইদ।

‘আমাদের নিজস্ব কোনো বেসিক স্টিল মিল নেই’

ভোটপ্রদান শেষে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পোদ্যোক্তা ও পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এই শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আমাদের নিজস্ব কোনো বেসিক স্টিল মিল নেই।

ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সেই জায়গায় এই শিপ ব্রেকিং সেক্টরটি আমাদের অভ্যন্তরীণ লোহার বিশাল জোগান দিয়ে আসছে। এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং বড় একটি সেক্টর।”

তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, নতুন নেতৃত্ব যেন সবাইকে সাথে নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের এই শিল্পের সুনাম ধরে রাখেন এবং দেশের বাজারে সুলভ মূল্যে লৌহজাত দ্রব্যের জোগান নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখেন।

লক্ষ্য এবার ‘গ্রিন শিপইয়ার্ড’ ও সরকারি নীতি সহায়তা

একসময় দেশের জাহাজ ভাঙা শিল্প নিয়ে পরিবেশগত নানা প্রশ্ন থাকলেও, দৃশ্যপট এখন দ্রুত পাল্টাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ‘এসএন করপোরেশন’-এর মালিক ও ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী বলেন, “আগে অধিকাংশ ইয়ার্ড আধুনিক মানের ছিল না; কিন্তু বর্তমানে পরিবেশসম্মতভাবে ইয়ার্ড গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এরই মধ্যে আমাদের অনেকগুলো ইয়ার্ড ‘গ্রিন শিপ ইয়ার্ডে’ রূপান্তর হয়েছে। আমরা এই খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও দাবিদাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরব।”

দায়িত্ব নেওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরীও সুর মেলালেন সেই সম্ভাবনার পথেই।

তিনি বলেন, “শিপ ব্রেকিং শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে শতভাগ কাজে লাগাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা জরুরি।

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, সরকারের কাছে আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো তুলে ধরে আমরা এই শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”

ব্যবসায়ীদের আশা, নতুন এই কমিটির হাত ধরে দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহযোগী ‘শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং’ খাত আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি