পরিবারের চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া সামান্য এক মুহূর্তের অসাবধানতায় চট্টগ্রাম হাটহাজারীর মেখলে নেমে এসেছে অমানিশার অন্ধকার। পুকুরের পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে ৩ বছর বয়সী ফুটফুটে এক শিশুকন্যা-হুমাইরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঠান্ডা মিয়া মিস্ত্রির বাড়িতে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। মারা যাওয়া শিশুকন্যা হুমাইরা ওই এলাকার ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে বাড়ির সামনে একা একা খেলছিল ছোট্ট হুমাইরা। পরিবারের লোকজনের ব্যস্ততার সুযোগে সবার অজান্তেই বাড়ির পাশের পুকুরের পাড়ে চলে যায় অবোধ শিশুটি। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে পুকুরের পানিতে পড়ে যায়।
কিছুক্ষণ পর সন্তানকে না দেখে চারদিকে খোঁজ শুরু করেন স্বজনরা। চারদিকে নাম ধরে ডেকেও সাড়া না পেয়ে একপর্যায়ে ঘরের পাশের পুকুরে তাকাতেই চোখ আটকে যায় তাদের।
পানিতে ভাসছিল অবিন্যস্ত ছোট্ট দেহটি। স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে নিয়তির নির্মম পরিহাস, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমাইরাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার করুণ বর্ণনা দিয়ে মেখল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিন বলেন, পরিবারের অজান্তে খেলতে গিয়েই শিশুটি পুকুরে পড়ে যায়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
কোমলমতী হুমাইরার এমন অকাল প্রস্থানে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। একটি নিষ্পাপ জীবনের এভাবে ঝরে পড়া আবারও আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল-ছোট শিশুদের নিয়ে জলাশয়ের আশপাশে কতটা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

