চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খাতায় যার নাম ছিল জননিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি-সেই ৩৩০ জনের শীর্ষ তালিকার ১ নম্বর দুষ্কৃতকারী জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’ (৩৫)-এর অপরাধের অধ্যায় থমকে গেল রক্তভেজা এক রাতে।
জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে আসার মাত্র কয়েকমাসের মাথায় নিঝুম রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারাতে হলো এই বিতর্কিত ব্যক্তিকে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাতে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকায় ঘটে এই নৃশংস ঘটনা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পুরানগড় এলাকার নির্জন পথ ধরে যাচ্ছিলেন জাহেদ। আগে থেকেই সেখানে নিস্তব্ধতার সুযোগ নিয়ে ওঁত পেতে ছিল একদল সশস্ত্র হামলাকারী।
জাহেদের মোটরসাইকেলটি একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছাতেই অতর্কিতে তার পথরোধ করে দুর্বৃত্তরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরা হয়।
কোনো কথা কাটাকাটির সুযোগ না দিয়ে সরাসরি মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি কোপানো শুরু করে তারা। আঘাতের তীব্রতায় রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কেই লুটিয়ে পড়েন জাহেদ।
হামলাকারীরা দ্রুত সটে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার জীবনের শেষ স্পন্দনটুকু থেমে যায়। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
সিএমপির নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায়, নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে চলতি বছরের শুরুতেই যে ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তার একদম শীর্ষে-১ নম্বরে ছিল এই ‘পিচ্চি জাহেদ’।
তার বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদকের রাজত্ব পরিচালনা, চাঁদাবাজি ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা ঝুলছিল।
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকাতেই সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর একটি বড় অভিযানে ১০৪টি ইয়াবা এবং ১৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
তবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি পুনরায় এলাকায় ফিরে আসেন। আর ফিরেই নিজের পুরনো সাম্রাজ্যের জটিল সমীকরণের জালে জড়িয়ে পড়েন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ দিন ধরেই চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে একক আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন জাহেদ। প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর পুলিশের ধারণা-মাদক ও অস্ত্রের টাকার ভাগাভাগি, এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার কিংবা অভ্যন্তরীণ কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে দীর্ঘদিনের পুরনো শত্রুতার জের ধরেই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশের বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত কারণ উন্মোচন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক দল ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

