চট্টগ্রামের সবচেয়ে অভিজাত বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদের বুকে ২৪ দশমিক ৯৬ শতক সরকারি জমি নিয়ে গড়ে ওঠা এক দুর্ধর্ষ প্রতারণার জাল উন্মোচিত হয়েছে।
জাল রেকর্ডপত্র তৈরি ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে প্রায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী) মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুকসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৮ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত অনুসন্ধানের বিস্ফোরক তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগ্রাবাদের প্রাণকেন্দ্রে যেভাবে পাতা হয়েছিল জালিয়াতির ফাঁদ:
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রামের গোঁসাইলডাঙা মৌজার লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের অংশ। চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার মূল্যবান ২৪.৯৬ শতক সরকারি জমি দখলের উদ্দেশ্যে একটি সুসংগঠিত চক্র একজোট হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেরা লাভবান হওয়া এবং অন্যকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নামেন জাল-জালিয়াতির খেলায়। ভূয়া ও জাল রেকর্ডপত্র তৈরি করে সেগুলোকে আসল হিসেবে উপস্থাপন করা হয় সরকারি খাতায়।
২৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার হিসাব যেভাবে এলো
সরকারী এই জমির বর্তমান আর্থিক মূল্য চোখ কপালে তোলার মতো। দুদকের হিসাবমতে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী (বাড়ি ব্যতিরেকে) জমির মূল দাম ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা।
বছরের পর বছর ধরে জমিতে অবস্থান করলেও নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। এই জমির বকেয়া ভাড়া বাবদ যোগ হয়েছে আরও ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা।
জমি ও বকেয়া ভাড়া মিলিয়ে সরকারের সর্বমোট ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে ও জাল দলিল দেখিয়ে অভিযুক্তরা এতদিন জমিটি নিজেদের দখলে রেখেছিলেন।
আসামী তালিকায় যারা আছেন
দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা মেলায় যাদের বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তারা হলেন, মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক (সাবেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ, বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী, বাগেরহাট), ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।
আইনের যে ধারায় ফাঁদে পড়ছেন আসামিরা
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-১) থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় সরাসরি মামলা দায়েরের জোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং সরকারি সম্পদ গ্রাসের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি সম্পদ রক্ষায় দুদকের এমন কঠোর পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করছেন সাধারণ সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


