একই সাথে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বেড়ে ওঠা, একই সাথে খেলার ছলে মেতে থাকা, এমনকি একই স্কুলে পড়ার স্বপ্ন রঙিন করে তোলা-দুই শিশুর সবকিছুই যেন ছিল একসঙ্গে।
কিন্তু বিধাতার নিষ্ঠুর এক নিয়তি তাদের সেই বন্ধন ছিঁড়ে দিল না, বরং পরপারেও পাঠালো একই সাথে।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধর্মপুর হায়দার আলী তালুকদার বাড়িতে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে ঘনিয়ে আসে এক অমানিশার অন্ধকার।
বাড়ির আঙিনায় খেলতে গিয়ে পাশের পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায় দুই অবোধ শিশু-মারিয়া (৫) ও সাফিয়া (৬)। সম্পর্কে তারা দুজনই আপন চাচাতো বোন।
মারিয়া স্থানীয় মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিনের মেয়ে এবং সাফিয়া মোহাম্মদ সরোয়ারের মেয়ে। তারা দুজনই স্থানীয় হাজী মোশাররফ আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পেন্সিল আর খাতার পাতায় কেবল জীবনের বর্ণমালা শেখার শুরু হয়েছিল যাদের, শৈশবের সেই রঙিন দিনগুলো মাঝপথেই থমকে গেল জলাশয়ের নিথর তলদেশে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম আকাশ আক্ষেপ করে জানান, বিকেলের মিষ্টি রোদে বাড়ির উঠোনে খেলা করছিল দুই বোন। খেলতে খেলতেই অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশেই থাকা পুকুরে পড়ে যায় তারা। কোমলমতি শিশু দুটির কেউই সাঁতার জানতো না।
বেশ কিছুক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে স্বজনদের মনে শঙ্কার মেঘ জমে। শুরু হয় পরিবারের ব্যাকুল খোঁজাখুঁজি। সবশেষে পুকুরের শান্ত জলের তলদেশ থেকেই উদ্ধার করা হয় তাদের নিথর, নিস্পন্দ দেহ।
জল থেকে উদ্ধার করে মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পার্শ্ববর্তী রাউজান উপজেলার জে. কে. মেমোরিয়াল হাসপাতালে।
যদি অলৌকিক কিছু ঘটে-এমন আকুল প্রার্থনায় ব্যাকুল ছিলেন স্বজনরা। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সব আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিয়ে তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
একটি পরিবারের দুই শিশুর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক প্রস্থানে শুধু স্বজনরাই নন, পুরো এলাকা থমকে গেছে শোকের স্তব্ধতায়।
যে অঙ্গনে কিছুক্ষণ আগেও দুই বোনের ছোটাছুটি আর খিলখিল হাসির শব্দ ভেসে আসতো, সেখানে এখন কেবলই স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। কোনো সান্ত্বনাই মুছে দিতে পারছে না এই অবর্ণনীয় শূন্যতা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


