চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকার কাপ্তাই রাস্তার মাথা। প্রতিদিনের মতো ব্যস্ত এক দুপুরে পরিবারের চোখের আড়ালে চলে যায় মাত্র এক বছর নয় মাস বয়সী শিশু সাবিহা নূর। ঘরে তখন কান্নার রোল।
কিন্তু সেই স্বজন হারানোর দুশ্চিন্তা স্থায়ী হতে দেয়নি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) একটি তৎপর দল।
অপহরণের মাত্র ছয় ঘণ্টার মধ্যে নগরের লালখান বাজার এলাকা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতকানিয়া এলাকার এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার পেছনে মূল ভূমিকা পালনকারী ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার)। কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মদিনা ভাতঘরের পেছনে একটি বসতঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকে সাবিহা নূর।
বোয়ালখালী উপজেলার কদুরখিল গ্রামের মো. বোরহান উদ্দিন টিটুর এই ছোট্ট মেয়েটিকে বেলা পৌনে একটার দিকে চতুরতার সঙ্গে কৌশলে নিয়ে কেটে পড়ে ১৫ বছর বয়সী আমির হোসেন।
স্বজনরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই অভিযানে নামে এসআরবির একটি চৌকস দল।
ওই দিনই বেলা তিনটার দিকে নগরের লালখান বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমিরকে হেফাজতে নেয় তারা।
একই সঙ্গে তার কাছে থাকা অবুঝ সাবিহাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এক অনিশ্চিত আশঙ্কা থেকে মুক্ত হওয়া পরিবারের কোলে।
পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। ১৫ বছরের আমির জানায়, সাবিহাকে সে নিজের ইচ্ছায় নেয়নি, টাকার বিনিময়ে নিজের মামা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন ও মামি দিলো আরা বেগমের হাতে শিশুটিকে তুলে দেওয়ার চুক্তি হয়েছিল।
আমিরের দেওয়া সেই তথ্যের সূত্র ধরে নগরের স্বাধীনতা কমপ্লেক্সের সামনে থেকে অভিযান চালিয়ে মো. মোজাম্মেল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি।
পরে নগরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে আরেক সহযোগী মামি দিলো আরা বেগমকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনার পর দিন, অর্থাৎ ১৮ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী সাবিহার বড় চাচা বাদী হয়ে নগরীর চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
এসআরবির সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতি ও অভিযুক্ত কিশোর আমির হোসেনকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চান্দগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেড় বছরের অবুঝ সাবিহা এখন পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরলেও, টাকার লোভে শিশু অপহরণের এমন ঘটনা নগরের সাধারণ মানুষের মনে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


