সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ার মুহতামিম বা মহাপরিচালক মাওলানা আবু তাহের কাসেমী নদভী আর নেই।
সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে চট্টগ্রাম ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
বরেণ্য এই আলেমের মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী।
প্রবীণ এই শিক্ষাবিদ ও আলেম দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
তার মৃত্যুতে পটিয়া মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তাঁর অগণিত ভক্ত ও অনুসারীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছেন।
মাওলানা আবু তাহের কাসেমী ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর নিচিন্তাপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম নাজির আহমদ।
শৈশব থেকেই তিনি পারিবারিক ধর্মীয় পরিবেশে বড় হন এবং দ্বীনি শিক্ষার পথে পা বাড়ান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি নানুপুর মাদ্রাসা, জামিয়া ইউনুসিয়া এবং আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় পড়াশোনা করেন।
১৯৮০ সালে তিনি দাওরায়ে হাদিস এবং ১৯৮১ সালে ইফতা সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার উচ্চতর ধাপে পা রাখেন।
তৃষ্ণা মেটাতে তিনি ভারত ও পাকিস্তান সফর করে বিদেশের নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করেন। ভারতের ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম দেওবন্দে তিনি পুনরায় দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং নদওয়াতুল উলামা থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
তাঁর পাণ্ডিত্য ও ভাষাজ্ঞান তাঁকে আলেম সমাজে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।শিক্ষাজীবন শেষে তিনি প্রিয় বিদ্যাপীঠ আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
সেখানে তিনি হাদিস ও আরবি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘকাল দক্ষতার সঙ্গে পাঠদান করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাঠামোতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশেষ করে দারুল ইকামার নাজিম হিসেবে তাঁর কঠোর ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক দক্ষতা সবার নজর কেড়েছিল।মাওলানা আবু তাহের ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান।
এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের অক্টোবরে তিনি দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর বৃহৎ শিক্ষা বোর্ড আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
মৃত্যুকালে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



