চট্টগ্রাম নগরের এনায়েত বাজার এলাকার ফুচকা তৈরির কারখানাগুলোতে চসিকের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক চিত্র।
অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করে ফুচকা তৈরি করা হচ্ছিল। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) গোয়ালপাড়া এলাকায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা। অভিযানে তিনটি ফুচকা কারখানাকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এর মধ্যে সাহেদ ফুচকা কারখানাকে ২০ হাজার, নুর নবী ফুচকা কারখানাকে ১৫ হাজার এবং ভাই ভাই ফুচকা কারখানাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, ভাঙাচোরা ফ্লোরের ওপর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ফুচকা তৈরি করা হচ্ছিল। নিম্নমানের আটা-ময়দার সঙ্গে কুড়া-ভুষি মিশিয়ে খাদ্য প্রস্তুতের প্রমাণও পাওয়া যায়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের খাদ্য উৎপাদন শুধু মানহীন নয়, সরাসরি রোগের ঝুঁকি তৈরি করে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মাকসুদুল করিম বলেন, “নোংরা পরিবেশে তৈরি খাবারে সহজেই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাস জন্মায়।
এসব খাবার খেলে ডায়রিয়া, ফুড পয়জনিং, টাইফয়েড, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ও কিডনির সমস্যাও হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, নিম্নমানের আটা-ময়দার সঙ্গে কুড়া-ভুষি মেশানো হলে তা হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও মারাত্মক হতে পারে।
বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, নগরে জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড হিসেবে ফুচকার চাহিদা থাকলেও এর উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নজরদারির বাইরে থেকে যায়। ফলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্য সহজেই বাজারে ছড়িয়ে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, নিয়মিত মনিটরিং, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং খাদ্য প্রস্তুতকারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকলে এ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে।
তবে এ বিষয়ে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা জানিয়েছেন, নগরবাসীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
শুধু অভিযান নয়—ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোথায়, কীভাবে খাবার তৈরি হচ্ছে তা বিবেচনা করে খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
কারণ, সামান্য অসচেতনতা থেকেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে—যার মূল্য দিতে হয় পুরো সমাজকেই।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



