প্রিমিয়ারে ‘ইনভেস্টিং ১০১’-ক্লাসরুমের বাইরে অর্থনীতির পাঠ!

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৮

নিজের অর্থ কীভাবে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হয়, কেন সঞ্চয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগও জরুরি, মূল্যস্ফীতির প্রভাবে কীভাবে কমে যায় অর্থের প্রকৃত মূল্য—এসব বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী কর্মশালা ‘ইনভেস্টিং ১০১ : মাস্টারক্লাস’।

শনিবার (২৭ জুন) প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালার আয়োজন করে ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘বৃদ্ধি’‘লংকাবাংলা’

আয়োজনে সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিরেক্টরেট অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ)। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আর্থিক সাক্ষরতা (ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি), ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা (পার্সোনাল ফাইন্যান্স) এবং মানি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলাই ছিল কর্মশালার মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ডিরেক্টরেট অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার (ডিএসডব্লিউ)-এর অ্যাডভাইজার সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সচেতনতা ভবিষ্যৎ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠার আহ্বান জানান এবং কর্মশালার তাৎপর্য তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, আর্থিক সাক্ষরতাও একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ সফলতার অন্যতম ভিত্তি।

ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা, সঞ্চয়ের অভ্যাস এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগ সম্পর্কে সচেতনতা তরুণ প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তিনি আরও বলেন, ‘বৃদ্ধি’ ও ‘লংকাবাংলা’-র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালা শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক আর্থিক জ্ঞান অর্জনের একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ।

এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনিয়োগ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করবে এবং দেশের পুঁজিবাজার সম্পর্কে তাদের আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়াবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মশালার অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন, যিনি বর্তমানে সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সাক্ষরতার শিক্ষা ব্যক্তিজীবন থেকেই শুরু হওয়া উচিত। দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় মূল্যস্ফীতি কীভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, সে বিষয়ে সবার সম্যক ধারণা থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র পরিসরে মাইক্রো-ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ঠিক এ লক্ষ্যেই কাজ করছে ‘বৃদ্ধি’। তরুণদের ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা ও আর্থিক সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করাই প্রতিষ্ঠানটির মূল উদ্দেশ্য।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একুশ ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট-এর পরিচালক ও চিফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসার মমিনুল হক

পুঁজিবাজারে ১২ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি কর্মশালা শেষে তিনি অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘বৃদ্ধি’ বাংলাদেশের প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড অ্যাগ্রিগেটর, যা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা থেকে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করে সাধারণ মানুষের বিনিয়োগযাত্রাকে সহজ করেছে।

এ আয়োজনে বৃদ্ধির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা ইমরানুল গনি ফিরা, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফায়াজ হাসান এবং পার্টনার আলবিন আহমেদ, ইমাম হোসেন, আবির বড়ুয়ামোহাম্মদ তাহসিন

অন্যদিকে, অংশীদার প্রতিষ্ঠান লংকাবাংলা কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ করে দেয়, যাতে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তাদের যাত্রা আরও সহজ হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বৃদ্ধি করবে, ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং দেশে একটি দায়িত্বশীল বিনিয়োগ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি