রহমান নগরের সেই পুরোনো দেওয়ালটি কেড়ে নিল শ্রমিকের প্রাণ, আহত ৪

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৩৫

ক্ষণিকের অসতর্কতা কিংবা দীর্ঘদিনের পুরোনো এক জরাজীর্ণ দেওয়াল যে মুহূর্তে যমদূত হয়ে নেমে আসবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি ব্লকের বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এক নিমেষেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল একটি পরিবার, গুরুতর আহত হলেন আরও চারজন।

সড়কের পাশের একটি পুরোনো দেওয়াল আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে নিচের কলোনিতে। আর সেই দেওয়ালের নিচেই চাপা পড়ে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান শফিকুল রহমান (৩০) নামের এক তরুণ শ্রমিক।

তার বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। জীবিকার তাগিদে, একটু ভালো থাকার আশায় নিজ গ্রাম ছেড়ে চট্টগ্রামে এসেছিলেন শফিকুল।

কিন্তু নগরের এক টুকরো ইটের দেওয়ালই যে তার জীবনের শেষ সীমানা লিখে দেবে, তা কে জানত!

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রহমান নগর আবাসিক এলাকার বি ব্লকের একটি সড়কের পাশে দীর্ঘদিনের পুরোনো একটি দেওয়াল ছিল। বিকেলে হঠাৎ বিকট শব্দে দেওয়ালটি ধসে নিচের সারিবদ্ধ কলোনির ওপর পড়ে।

ঘটনার আকস্মিকতায় কলোনির বাসিন্দারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বেশ কয়েকজন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শফিকুলের।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা। তারা এসে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আহত অবস্থায় আরও চারজনকে উদ্ধার করে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে।

স্থানীয় বাসিন্দা করিমউল্লাহ জানান, “হঠাৎ একটা বিকট শব্দ শুনলাম। এসে দেখি দেওয়ালটা পুরো কলোনির ওপর ধসে পড়েছে।

ধুলো আর চিৎকারে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল। আমরা কয়েকজন মিলে হাত লাগালাম, কিন্তু শফিকুলকে আর বাঁচানো গেল না।”

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

শফিকুল রহমান নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আহত চারজনকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

তবে ঠিক কী কারণে এই পুরোনো দেওয়ালটি ধসে পড়ল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেওয়ালটির রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ ইতিমধ্যেই কারণ অনুসন্ধানে নেমেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি