লুটপাটের বেড়িবাঁধ আর সহ্য করা হবে না: আনোয়ারায় নাহিদ

দোষারোপের সময় নয়, দরকার সম্মিলিত উদ্যোগ

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৩৭

টানা কয়েকদিন ধরে ঘরের ভেতর থৈ থৈ করছে নোংরা পানি। উনুন জ্বলছে না, ঘরে নেই শুকনো খাবার।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা দোভাষী বাজার এলাকার কয়েকশ পরিবারের গল্পটা এখন এমনই বিষাদময়।

বন্যা আর তীব্র জলাবদ্ধতায় স্থবির হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষের জীবন। কিন্তু এই চরম মানবিক সংকটেও যেন ঘুম ভাঙেনি স্থানীয় প্রশাসনের!

গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে মানুষ যখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন, তখনো তাঁদের পাশে দেখা মেলেনি কার্যকর কোনো সরকারি উদ্যোগের।

এই মহাসংকটে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি।

রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ শেষে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের কঙ্কালসার ও বেহাল দশা পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম।

আনোয়ারা উপজেলার সবচেয়ে বড় ক্ষতচিহ্ন ‘উপকূলীয় বেড়িবাঁধ’ উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, আনোয়ারার সবচেয়ে বড় সমস্যা এই উপকূলীয় বেড়িবাঁধ। এই বাঁধ নির্মাণের নামে অতীতে হাজার হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকার তা লুটপাট করেছে।

চলতি অর্থবছরেও বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় কথা দিচ্ছি, এই বরাদ্দের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি বা লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।

জাতীয় সংসদে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে দ্রুত কাজ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।

দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, যে কারণেই হোক, চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হচ্ছে।

তবে এখন একে অপরকে দোষারোপ করে সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। সবচেয়ে বড় বাস্তব সত্য হলো, লাখ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

এই মহাসংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে দেশের সকল সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সচেতন ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষকে একযোগে দুর্গতদের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।

উপকূলের বিপন্ন মানুষের পাশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সারা দেশের মানুষ চরম উদ্বিগ্ন। আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন।

আজ আনোয়ারায় এসে দেখলাম, গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে কয়েকশ পরিবার পানির নিচে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। অথচ স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের কাউকে কার্যকরভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি।

এমনকি সরকারি প্রয়োজনীয় ত্রাণও এখনো বহু মানুষের কাছে পৌঁছায়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আনোয়ারার এই মানবিক উদ্যোগ কেবল শুরু জানিয়ে নাহিদ ইসলাম ঘোষণা দেন, আনোয়ারার এই ত্রাণ কার্যক্রম শেষে অতি দ্রুতই বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতেও এনসিপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ত্রাণ ও জরুরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। কোনো দুর্গত মানুষ যেন নিজেকে একা না ভাবেন, সেই প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

আজকের এই মানবিক কার্যক্রমে একাত্মতা জানাতে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক তরুণ ও প্রবীণ নেতৃত্ব।

ত্রাণ বিতরণ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি ও মোহাম্মদ শাহেদ।

এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই কার্যক্রমে অংশ নেন। বুকসমান পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখে তখন এক চিলতে স্বস্তি-অন্তত এই বিপদে কেউ একজন তাঁদের কষ্টের কথা শুনতে ছুটে এসেছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি