এক্সিম ব্যাংকের ১১২ কোটি টাকার মামলা: জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:১১

১১২ কোটি টাকার একটি চেক ডিজঅনারের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মাত্র এক হাজার টাকার মুচলেকায় তাঁর এই জামিনের আদেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাদ্দেসুল আমিন সংবাদমাধ্যমের কাছে জামিনের এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় সালমান এফ রহমান ছাড়া অন্য আসামিরা আগেই জামিন পেয়েছিলেন।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের (এক্সিম) পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল অফিসার উজ্জ্বল মণ্ডল বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় বেক্সিমকো সংশ্লিষ্ট ৫টি কোম্পানির নাম উল্লেখ করে সালমান এফ রহমানসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন, এসকর্প হোল্ডিংস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পরিচালক মাহফুজুর রহমান, চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার ইমরান মণ্ডল, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. লুৎফর রহমান, এএফআর হোল্ডিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশকুরা খানম, পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু নাঈম মোহাম্মদ সালেহীন, ডিরেক্টর মো. মোস্তাফিজুর রহমান তানভীর এবং বেক্সিমকো হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানের পুত্র এ এস এফ রহমান।

এ মামলায় অভিযুক্ত কোম্পানিগুলো হলো-বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেড, এসকুরপ হোল্ডিং লিমিটেড, এসএফআর হোল্ডিং লিমিটেড, এএসআর হোল্ডিং লিমিটেড এবং বেক্সিমকো হোল্ডিং লিমিটেড।

মামলার এজাহার ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, এক্সিম ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিট-১ লিমিটেডের পক্ষ থেকে ১১২ কোটি টাকার একটি চেক ইস্যু করা হয়।

গত ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর চেকটি এক্সিম ব্যাংকের হেড অফিস করপোরেট শাখায় ক্যাশ করার জন্য জমা দেওয়া হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেটি ‘ইনসাফিসিয়েন্ট ফান্ড’ বা অপর্যাপ্ত তহবিল উল্লেখ করে ফেরত (ডিজঅনার) দেয়।

পরবর্তীতে ২৬ নভেম্বর নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১-এর ১৩৮ ও ১৪০ ধারার বিধান অনুযায়ী ডাকযোগে আসামিদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে চেকের অর্থ পরিশোধের কথা বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় চলতি বছরের শুরুতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই নির্দিষ্ট চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেও সালমান এফ রহমানের এখনই কারাগার থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, একই বছরের ১৩ আগস্ট সালমান এফ রহমানকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।

গত ৭ মে এই চেক ডিজঅনার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক গুরুতর মামলা বিচারাধীন থাকায় তাঁকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি