কক্সবাজারের বহুল আলোচিত মা-মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মাস্টারমাইন্ড জিসান গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৮

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের সেই মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক দিনটির কথা স্থানীয় বাসিন্দারা আজও ভুলতে পারেননি।

চোর-ডাকাতের বেশে ঘরে ঢুকে একই পরিবারের মা ও তার কিশোরী মেয়েকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর যে ট্রমা ও নিরাপত্তাহীনতা পরিবারটিকে ঘিরে ধরেছিল, তা ভাষায় প্রকাশের বাইরে।

তবে অবশেষে সেই অন্ধকার কাটার ইঙ্গিত মিলেছে, ঘটনার মাস্টারমাইন্ড জিসানকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে চকরিয়া সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশের চৌকস দল শুরু থেকেই ছায়ার মতো ধাওয়া করে চলেছে অপরাধীদের।

একে একে রেজাউল করিম, তোফাজ্জল হোসেন, কেফায়েত হোসেন, মোহাম্মদ তানজিদ, মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ তারেক নামে ছয়জনকে জালে তোলা গেলেও অধরা থেকে গিয়েছিল মূল কারিগর জিসান।

অবশেষে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মাতামুহুরীর কোনাখালী ইউনিয়নের বটতলী এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের কৌশলী চালে আর পার পায়নি জিসান, হাতকড়া পরতেই হয় তাকে।

এই গ্রেপ্তারের সংবাদের পর ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পেয়েছে।

নিজেদের চরম আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তবে তাদের একটাই দাবি-মূলহোতা ধরা পড়েছে ঠিকই, কিন্তু বিচারে যেন কোনো ফাঁকফোকর না থাকে।

প্রতিটি অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করলেই কেবল তাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি ও বেদনার কিছুটা উপশম হবে।

মাতামুহুরী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মাসুদ জানিয়েছেন, আসামিকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রতিটি সুতো উন্মোচনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপেক্ষার পালা এখন বিচারালয়ের বারান্দায়, যেখানে নির্যাতিত মা-মেয়ে এবং পুরো এলাকা পথ চেয়ে বসে আছে এক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশায়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি