বাইকের ট্যাংকে লাখ টাকার নেশা নিয়ে এসেই পুলিশের জালে ধরা ইয়াকুব

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩০

বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে আর দশটি সাধারণ মোটরবাইকের মতোই একটি জিপিএক্স ডেমন। তবে সেই বাইকের জ্বালানি ট্যাংকের ভেতরের দৃশ্যটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।

ফুয়েল ট্যাংকের ভেতরে পেট্রোলের পাশাপাশি বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল হাজার হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। তবে পাচারকারীর শেষ রক্ষা হয়নি, পুলিশের সুচতুর অভিযানে অবশেষে ফাঁস হয়ে গেছে সেই অভিনব চক্রান্ত।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের ছড়ারব্রীজ এলাকার পাকা সড়কে অভিযান চালিয়ে মো. ইয়াকুব আলী (৪২) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ সময় তার কাছ থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো-সিলভার রঙের জিপিএক্স ডেমন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ইয়াকুব আলী রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার মিঠিপুর ইউনিয়নের কতুবপুর গবরা এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে। সুদূর রংপুর থেকে এসে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই এলাকাকে তিনি ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছিলেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।

যেভাবে পরিচালনা করা হয় অভিযান:
পুলিশের কাছে আগাম গোপন সংবাদ ছিল, রেজিস্ট্রেশনহীন একটি বাইকে করে বিশাল এক ইয়াবার চালান পার করা হবে। সেই সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ছড়ারব্রীজ এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।

সন্দেহভাজন বাইকটি এলাকায় পৌঁছাতেই গতিরোধ করে পুলিশ। এরপর চলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি। প্রথম দর্শনে কিছুই নজরে না এলেও অভিজ্ঞ পুলিশ সদস্যরা ফুয়েল ট্যাংকের পাশে নজর দিতেই উন্মোচিত হয় পাচারের অভিনব মাধ্যমটি।

ট্যাংকের গায়ের বিশেষ ফাঁক দিয়ে নিখুঁত কৌশলে তৈরি করা লুকানো কুঠুরি থেকে উদ্ধার করা হয় ৭ হাজার পিস ইয়াবা।

অভিযান প্রসঙ্গে বাঁশখালী থানার অপারেশন অফিসার মো. আরিফ হোসাইন জানান, মাদককারবারিরা আইনি চোখ ফাঁকি দিতে দিন দিন কৌশল পাল্টাচ্ছে। এই ক্ষেত্রেও ফুয়েল ট্যাংকের পাশে বিশেষ উপায়ে ইয়াবাগুলো লুকানো হয়েছিল।

তবে গোপন তথ্যের সঠিক ব্যবহারের কারণে চালকসহ ইয়াবা জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। মাদক নেটওয়ার্কের মূলে পৌঁছাতে আমাদের কার্যক্রম জোরদার রয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃত ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি