দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের অভ্যন্তরীণ আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াজাল কাটাতে এবার সরাসরি মাঠে নামল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া নানামুখী আর্থিক অনিয়মের শিকড় খুঁজে বের করতে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগত সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে ৩ (তিন) সদস্যের একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সরকারি আদেশে (স্মারক নম্বর: ২৮.০০.০০০০.০০০.০৮৮.৯৯.০০০২.২৬.৬৭) এই কমিটি গঠনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
যাদের ওপর সত্য উদঘাটনের দায়িত্ব:
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত এই তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) মহাপরিচালক (যুগ্মসচিব) কাজী জিয়াউল বাসেত।
কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে পদ্মা অয়েল পিএলসি-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) আবু মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে এবং সদস্য-সচিবের গুরুদায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিনকে।
জ্বালানি বিভাগ থেকে জারি করা ওই আদেশে কমিটিকে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কঠোর তিনটি নির্দেশনা বা কার্যপরিধি বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা ও দায় নির্ধারণ: নির্দিষ্ট সময়কালে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের যাবতীয় আর্থিক কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করে অনিয়মের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার দায়-দায়িত্ব সুনির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করতে হবে।
একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরণের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রদান করবে কমিটি। প্রয়োজনে যেকোনো গোপনীয় ও স্পর্শকাতর নথি সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের পূর্ণ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
কঠোর সময়সীমা: তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ০১ (এক) মাসের মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব বরাবর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
সদস্য কো-অপ্টের ক্ষমতা: তদন্তের স্বার্থে বা কাজের সুবিধার্থে কমিটি চাইলে যে কোনো উপযুক্ত কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে যুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে।
সরকারি এই আদেশটির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য প্রদান করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই তদন্তের মাধ্যমে মূল অনিয়মকারীরা যেমন চিহ্নিত হবেন, তেমনি সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধে কঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হবে।
এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত এক মাসের তদন্তে স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিকের ফাইলের আড়ালে থাকা কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

