এবার ৫ ফুট উঁচুতে মাথা তুলছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ!

প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১৮

সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টির করাল গ্রাসে চট্টগ্রামের জানালীহাট ও ষোলশহরের মধ্যবর্তী রেললাইন যখন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়, তখন অচল হয়ে পড়ে সাধের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট।

তবে এই দুর্ভোগকে স্থায়ী হতে দিতে নারাজ রেল প্রশাসন। জলমগ্ন সেই রেললাইনকে এবার পানির স্তর থেকে পুরো পাঁচ ফুট উঁচুতে পুনর্নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ে নামেন স্বয়ং প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকেরা।

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আকস্মিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।

তিনি পরিস্থিতি সচক্ষে দেখেন এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার কঠোর নির্দেশ দেন।

প্রতিমন্ত্রীর এই তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের পরই পুরো রেল বিভাগে তোড়জোড় শুরু হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, “জলবায়ু পরিবর্তন ও অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত বিকল্প ভাবতে বাধ্য করেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে আমরা দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে যাচ্ছি।”

এর আগেও গত ৭ জুলাই টানা বর্ষণের কবলে পড়ে চট্টগ্রামের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসের পাড়া পর্যন্ত রেলপথ। সে সময় রেলপথের উপরিভাগ দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।

ফলে প্রকৃতির রুদ্ররূপের কাছে থমকে দাঁড়ায় আধুনিক যোগাযোগের অন্যতম মাইলফলক কক্সবাজার-ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ।

টানা পাঁচ দিন পুরোপুরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পর, প্রকৌশলী ও কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত ১২ জুলাই পুনরায় ট্রেনের চাকা ঘোরে এই রুটে। কিন্তু সাময়িক স্বস্তিতেই থেমে থাকতে চায় না রেলওয়ে।

ভবিষ্যতে আর কোনো অতিবৃষ্টি যেন স্বপ্নের এই রেলযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে, সেজন্যই এবার স্থায়ী অবকাঠামোগত পরিবর্তনের দিকে পা বাড়াচ্ছে মন্ত্রণালয়।

৫ ফুট উঁচুতে রেললাইন পুনর্নির্মাণের এই সাহসী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগই জয় হবে না, বরং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল লাভ করবে এক নতুন ও নিরবচ্ছিন্ন গতি।

চেনা লাইনে ট্রেনের হুইসেল শোনার অপেক্ষায় এখন লাখো যাত্রী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি