লোকচক্ষুর আড়ালে গ্রামের এক চায়ের দোকানের পেছনে জড়ো হয়েছিল সশস্ত্র একদল যুবক।
উদ্দেশ্য-দুর্গম পাহাড় থেকে আনা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের নাশকতা ও সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো।
কিন্তু তাদের সেই ছক ভেস্তে গেছে। পুলিশের সূক্ষ্ম নজরদারি এবং স্থানীয় অধিবাসীদের সাহসিকতায় ঘটনাস্থলেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে চক্রের তিন সদস্য।
আরও পড়ুন
চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ সোমবার সন্ধ্যায় এই সফল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে।
উদ্ধার করা হয়েছে প্রাণঘাতী দুটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক এবং চারটি ১২ বোর কার্তুজ (যার মধ্যে দুটি তাজা এবং দুটি ব্যবহৃত খালি কার্তুজ)।
পুলিশি জালে ধরা পড়া আসামিরা হলো, সরফভাটা ইউনিয়নের সৈয়দুরখীল এজাহার মিয়া ফকিরের বাড়ির মৃত সুলতান আহাম্মদের ছেলে মো. আরিফ (২৬), একই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বড়খোলা মিরেরখীল এলাকার মৃত মো. কামালের ছেলে মো. মনির হোসেন (২৩) এবং বড়খোলা মিরেরখীল এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মো. রাকিব (১৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা ইউনিয়নের সৈয়দুরখীল এলাকার ‘ইউসুফের চায়ের দোকান’ এর পেছনের নির্জন স্থানে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে-এমন গোপন খবর পায় পুলিশ।
খবরের সত্যতা যাচাই করে পুলিশ দ্রুত সেখানে হাজির হলে টের পেয়ে অস্ত্রধারীরা দিকবিদিক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে।
তবে পুলিশের সুচতুর কৌশল এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় তিনজনকে ঘেরাও করে ধরে ফেলা সম্ভব হয়।
আটককৃতদের দেহে তল্লাশি চালিয়ে আরিফের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, মনির হোসেনের কাছ থেকে আরও একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক এবং রাকিবের কাছ থেকে দুটি তাজা ১২ বোর কার্তুজ ও দুটি ব্যবহৃত (খালি) ১২ বোর কার্তুজ।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থেকে এসব অবৈধ অস্ত্র ও কার্তুজ সংগ্রহ করেছিল।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নৈরাজ্য ও ভয়ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
এই ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িত থাকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।
আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সফল অভিযানের পর স্থানীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

