যন্তর মন্তরের ৩৬ দিনের স্থবিরতার অবসান-দিল্লিতে আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা সিজেপির

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ২১:৩৪

দীর্ঘ ৩৬ দিনের টানা আন্দোলন, স্থবির হয়ে থাকা রাজধানী দিল্লির রাজপথ এবং সরকারের সঙ্গে একাধিক আলোচনার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল দিল্লিবাসী।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে নিজেদের আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সাথে সিজেপির এক বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই সাথে দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে থাকা আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

দিল্লিতে আয়োজিত একটি জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সরকারের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এর উপস্থিতিতে আন্দোলনের সফল সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকার আন্দোলনের গুরুত্ব ও যৌক্তিকতা উপলব্ধি করে বিক্ষোভকারীদের সবকটি প্রধান দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর সেই সদিচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই রাজপথ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিজেপি।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকার আমাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আর এই সদিচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়েই আমরা আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষণা করছি।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের তোলা তিনটি মূল দাবিই সম্পূর্ণভাবে আদায় করা সম্ভব হয়েছে।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিতর্ক ও অসন্তোষের জেরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিটি তারা সরাসরি আদায় করেছেন।

দীর্ঘ ৩৬ দিনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ বিক্ষোভকারী ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া সমস্ত পুলিশি অভিযোগ ও মামলা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সম্প্রতি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম ও মানসিক চাপের জেরে যেসব শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের প্রতিটির পরিবারকে ১ কোটি রূপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

আন্দোলনকারী নেতা আশুতোষ রাঙ্কা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ৩৬ দিনের দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের পর সরকার আমাদের সাধারণ দাবিগুলো মেনে নিয়েছে।

আমাদের কোনো দাবিই উগ্র বা অসামাজিক ছিল না; এগুলো ছিল শিক্ষার্থীদের বাঁচিয়ে রাখার ন্যূনতম অধিকার। এখন আমরা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করার অনুরোধ করছি।

এই আন্দোলনের প্রভাবে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে ছিল দিল্লির কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তর এলাকা। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের শত শত দোকানপাঠ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধ রাখা হয়েছিল।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিরাপত্তার খাতিরে দিল্লির ১৬ থেকে ১৭টি জনবহুল মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

বর্তমানে চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই দিল্লির যন্তর মন্তরে লাউডস্পিকারে মাইকিং করছে পুলিশ।

হ্যান্ডমাইকে মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে, সরকার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে, আপনারা এখন শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান।

সুদীর্ঘ ৩৬ দিন পর দিল্লির রাজপথে আবারও স্বাভাবিক ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে, যা শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক-উভয় পক্ষের জন্যই এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। সূত্র: এনডিটিভি (NDTV)