মাস্ক পরে এল ১০-১২ জন, ব্যবসায়ীর ভবনে ভাঙচুর শেষে ককটেল ফাটিয়ে উধাও!

ককটেল আতঙ্কের নেপথ্যে কারা-সিসিটিভিতে শনাক্ত ২

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:২০

সকাল সাড়ে ৮টা। নগরীর ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় ভাটিয়ারী লিংক রোড এলাকা তখনো সপ্তাহের শুরুতেই ব্যস্ত হয়ে উঠছিল।

ঠিক তখনই একটি গাড়ি এসে থামে স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ১০ তলা ভবনের সামনে।

গাড়ি থেকে নেমে পড়ে ১০-১২ জন মাস্ক পরিহিত দুষ্কৃতকারী। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় নারকীয় তাণ্ডব!

অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয় কাজ করতে থাকা নির্মাণশ্রমিকদের, ভাঙচুর করা হয় দরজা-জানালা। আর যাওয়ার আগে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে ঘটিয়ে যাওয়া হয় একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ।

ঘটনার নেপথ্যে?-২০ লাখ টাকার চাঁদা না পাওয়া!

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চট্টগ্রামের একজন প্রতিষ্ঠিত চাল ও চিনির পাইকারি ব্যবসায়ী। সম্প্রতি তিনি বড় দিঘিরপাড় সংলগ্ন আবাসিক এলাকায় একটি ১০ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে মুখে মাস্ক পরা ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল দ্রুতগতির একটি গাড়িতে করে এসে জসিম উদ্দিনের ওই ভবনে চড়াও হয়। তারা ভবনে প্রবেশ করেই তাণ্ডব চালাতে শুরু করে।

বাধা দিতে গেলে ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের বেদম মারধর করা হয় এবং ভাঙচুর করা হয় নবনির্মিত দরজা-জানালা।

তাণ্ডব শেষ করে চম্পট দেওয়ার সময় এলাকা কাঁপিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় হামলাকারীরা। বিকট শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার কাছে অনবরত কল আসছিল।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জসিম উদ্দিন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে অচেনা একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে বারবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। কিন্তু কারা এই হুমকির পেছনে তা আমি চিনতে পারিনি। এ ঘটনায় আমি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

নেপথ্যে কি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘সাজ্জাদ বাহিনী’?

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ।

তিনি জানান, জসিম উদ্দিনের কাছে সন্ত্রাসীরা ২০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিল বলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন। চাঁদা না পেয়েই সন্ত্রাসীরা এই হামলা ও ভাঙচুর চালায়। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের মুখে মাস্ক পরা দেখা গেছে। তবে এর মধ্যেই দুজনকে আমরা শনাক্ত করতে পেরেছি। জড়িতদের গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চলছে।

হামলার সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর কুখ্যাত ‘সাজ্জাদ বাহিনী’ জড়িত কি না-এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলতে পারেননি। তবে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখছে এই হামলায় সাজ্জাদ বাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।

চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদার দাবিতে হুমকি, গুলি বর্ষণ ও মারধরের ঘটনা প্রতিনিয়ত উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে, গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার ‘ডিডিএন’ নামের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা।

ওই হামলার আগে সাজ্জাদের সহযোগী ডেভিড ইমন ডিডিএনের মালিকের কাছে সরাসরি চাঁদা দাবি করে হুমকি দিয়েছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ ও র‍্যাব যৌথ অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে হামলার মূল হোতা ডেভিড ইমন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

পাহাড়তলীর রবিবারের এই ঘটনায় নতুন করে ব্যবসায়ী সমাজে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তার করে এই সিন্ডিকেটকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি