সন্দ্বীপের দাপুটে সাবেক এমপি মাহফুজুর রহমান মিতা ডিবি পুলিশের জালে

রাতের আঁধারে গুলশানের অভিজাত বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:৩০

দ্বীপ জনপদ সন্দ্বীপের রাজনীতিতে টানা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিলেন তিনি। ২০১৪ থেকে ২০২৪-টানা তিন মেয়াদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন চট্টগ্রাম-৩ আসনের।

তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবে সন্দ্বীপের রাজনৈতিক অঙ্গনে যার ছিল দাপুটে উপস্থিতি, সেই মাহফুজুর রহমান মিতা এবার পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে আত্মগোপনে থেকেও শেষ রক্ষা পেলেন না।

সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর গুলশানের এক নীরব বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের গুলশান বিভাগ।

গোপন সূত্রের ভিত্তিতে খবর আসে, গুলশান-২ এলাকার ৪৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন কার্যাক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা। খবর পাওয়া মাত্রই ডিবি গুলশান বিভাগের একটি চৌকস দল বাড়িটি ঘিরে ফেলে।

সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চালানো হয় বিশেষ অভিযান। আকস্মিক এই অভিযানে আত্মগোপনে থাকা সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা আর পালাবার সুযোগ পাননি। বাড়ি থেকেই তাকে হেফাজতে নেয় ডিবি পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মঙ্গলবার সকালে ডিবি গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খাঁন জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযানটি চালানো হয়। গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান মিতা কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই গ্রেপ্তার হননি, বরং তার নিজ এলাকা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় ইতোমধ্যেই একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের রয়েছে। এসব মামলার অনেকগুলোতে তিনি এজাহারনামীয় প্রধান আসামি।

উপ-কমিশনার আ.ফ.ম আনোয়ার হোসেন খাঁন জানান, আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাকে আদালতে হস্তান্তর করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসন থেকে মাহফুজুর রহমান মিতা ২০১৪ সালের ১০ম, ২০১৮ সালের ১১শ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সন্দ্বীপের মূল ভূখণ্ড থেকে শুরু করে উপকূলীয় এলাকা-দীর্ঘ সময় তার একক নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে একের পর এক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি আত্মগোপনে যান। শেষ পর্যন্ত গুলশানের অভিজাত এলাকা থেকেও রেহাই মিলল না এই সাবেক আইনপ্রণেতার।

সন্দ্বীপের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় প্রভাব বিস্তার করা এই নেতার আইনি পরিণতির দিকেই এখন চোখ উপকূলের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি