চকরিয়ায় অপহরণের পর ছাত্রদল নেতার নিথর দেহ উদ্ধার, আটক ৩ নারী

মধ্যরাতের রোমাঞ্চকর রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০৫

একটি ফোন কল, আতঙ্কিত পথচারীদের চিৎকার এবং মাঝরাতে গোটা এলাকাজুড়ে রুদ্ধশ্বাস খোঁজাখুঁজি। সব চেষ্টা আর পাহাড়াকে বৃথা করে অবশেষে মহাসড়কের ধারে নিঃশব্দে পড়ে রইল এক তরুণের নিথর দেহ।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় রোববার দিবাগত রাতে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ঘটনা।

মহাসড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে উপজেলা ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলামের (২৮) রক্তঝরা মরদেহ।

তিনি উপজেলার কাকারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং লোটনী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

যেভাবে শুরু ঘটনার সূত্রপাত
রোববার রাত তখন আনুমানিক ১১টা। কাকারা ইউনিয়নের সাবের সওদাগরের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইসফাতুল। হঠাৎ একটি দ্রুতগামী নোয়া মাইক্রোবাস এসে থামে তার সামনে।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও সহকর্মীরা তাকে উদ্ধারে চকরিয়ার বিভিন্ন সড়কে পাহারায় বসে যান।

রাত যখন আড়াইটা, খবর আসে ইসফাতুলকে রাখা হয়েছে পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার একটি গোপন ভবনে। মুহূর্তেই দলের নেতা-কর্মীরা সেখানে ছুটে যান।

তবে ভবনের প্রহরীর তীব্র বাধার মুখে এলাকায় দেখা দেয় প্রচণ্ড উত্তেজনা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভবনের ভেতরে তল্লাশি অভিযান শুরু করে।

ভবনে যখন তল্লাশি চলছিল, ঠিক তখনই চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া ঢালা এলাকা থেকে আসে চরম মর্মান্তিক খবরটি।

মহাসড়কের পাশে নির্জন জায়গায় পড়ে আছে একটি রক্তাক্ত দেহ। পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত সেখানে গিয়ে শনাক্ত করেন, দেহটি আর কারও নয়-অপহৃত ইসফাতুল ইসলামের।

ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, নিহতের গলা, কপাল এবং মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তাকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল এবং এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে তিন নারীকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে।

একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে আবাসিক ভবনের রুদ্ধশ্বাস নাটকীয়তা, আর অবশেষে নির্জন মহাসড়কে নিথর দেহের সন্ধান-পুরো ঘটনাটি চকরিয়াজুড়ে চরম আতঙ্ক ও তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, নাকি রাজনৈতিক কোনো ছক রয়েছে-তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি