ব্যস্ত নগরের গোধূলিলগ্নে বাড়ি ফেরার পথে ওত পেতে থাকা ছিনতাইকারীদের মুখে পড়েছিলেন এক সরকারি কর্মকর্তা। মুহূর্তের মধ্যেই হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল তার ব্যক্তিগত মোবাইল ও কাজের ল্যাপটপটি।
কিন্তু অপরাধ করে খুব বেশিদিন লুকিয়ে থাকা সম্ভব হয়নি; ঘটনার আট দিনের মাথায় অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে মূল আসামিদের একজন।
চট্টগ্রাম নগরের কদমতলী এলাকায় কাস্টমস কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান খানের ওপর ঘটে যাওয়া এই ছিনতাইয়ের ঘটনায় একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি আনোয়ার হোসেনকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরের সদরঘাট থানা এলাকায় চালানো এক ঝটিকা অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনাটি গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কাস্টমস কর্মকর্তা মো. হাসানুজ্জামান খান কদমতলী আটমাসিং এলাকা থেকে রেললাইনগামী সড়ক ধরে হেঁটে নিজের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে হঠাৎ তিনজন দুর্বৃত্ত তার পথ রোধ করে জোরপূর্বক ঘিরে ধরে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ভীতি দেখিয়ে তার সঙ্গে থাকা মূল্যবান মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপটি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় অপরাধীরা।
ঘটনার আকস্মিকতা সামলে উঠে ওই দিনই কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা তিনজনকে আসামি করে একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন ক্ষতিগ্রস্ত কাস্টমস কর্মকর্তা।
মামলার পরপরই অপরাধীদের শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত রোববার গভীর রাতে সদরঘাট থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সদরঘাট থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সেখান থেকে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার সাধারণ কোনো অপরাধী নয়, সে নগরের বিভিন্ন থানায় একাধিক অপরাধের মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
অভিযানের সময় তার দখল থেকে কাস্টমস কর্মকর্তার ছিনতাই হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সাথে জড়িত বাকি দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার এবং বাকি ছিনতাই হওয়া মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


