বোয়ালখালীতে আগুনে পুড়লো ৫ ঘর, অক্ষত পবিত্র কোরআন!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৫১

মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল পাঁচটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই। দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠা আগুনের লেলিহান শিখায় মুহূর্তেই ছাই হয়ে গেল জীবনের উপার্জিত সব সঞ্চয়।

তবে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই এক অবিশ্বাস্য ও ঐশ্বরিক দৃশ্য দেখে তাজ্জব বনে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আগুনে ঘটিবাটি সব পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও একদম অক্ষত রয়ে গেছে পবিত্র কোরআন শরীফের হরফ ও পৃষ্ঠা!

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দনগর মাইজপাড়া দুদুমিয়া সওদাগরের বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই একটি ঘর থেকে আগুনের তীব্র ধোঁয়া ও লেলিহান শিখা দেখতে পান বাসিন্দারা।

মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শাহ আলম, আব্দুর রহিম, করিম, বাদশা মিয়া এবং নুরুল আলমের বসতঘর। আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও নিজেদের সহায়-সম্বল বাঁচাতে পারেননি তারা।

দুঃসংবাদ পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমার নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।

ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ জানান, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব না হলেও উদ্ধার কাজ চালানো হয়েছে।

আগুনে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব সর্বস্বান্ত পরিবারগুলো। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে ভুক্তভোগী শাহ আলম জানান, চোখের সামনে আমাদের অর্জিত সবকিছু ছাই হয়ে গেল। আগুনে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং আনুমানিক তিন ভরি স্বর্ণসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা এখন খোলা আকাশের নিচে।

তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝে আগুন নেভানোর পর স্থানীয়রা যে দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন, তাতে থমকে যান সবাই। চারপাশের সবকিছু কুপোকাত ও ভস্মীভূত হলেও সেখানে পাওয়া যায় অক্ষত পবিত্র কোরআন শরীফ। কোরআনের হরফ ও পৃষ্ঠাগুলোতে আগুনের কোনো আঁচ লাগেনি।

চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। উপস্থিত এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ভিডিওতে আমরা অনেক সময় এমন অলৌকিক ঘটনা দেখেছি, কিন্তু আজ নিজের চোখে চরণদ্বীপে তা দেখলাম। আল্লাহর কুদরত সত্যিই অপরিসীম, যা পুরো এলাকাকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।

একদিকে সম্বল হারানোর বেদনা ও আর্তনাদ, অন্যদিকে অলৌকিক এই স্মারক-সব মিলিয়ে বোয়ালখালীর চরণদ্বীপে এখন এক থমথমে ও আবেগঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। খোলা আকাশের নিচে থাকা

পরিবারগুলো এখন সরকারি ও সামাজিকভাবে মানবিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি