বন্দরনগরী চট্টগ্রামকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে আরও সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
বিশেষ করে নগরীর মূল আতঙ্ক-চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ও কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর ঐতিহাসিক দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে আয়োজিত সিএমপির সেপ্টেম্বর মাসের ‘মাসিক কল্যাণ সভা’য় সভাপতির বক্তব্যে কমিশনার এই কঠোর বার্তা প্রদান করেন।
সভায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে সিএমপি কমিশনার বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিকল্প নেই।
অপরাধ প্রতিরোধে কেবল রুটিন কাজ নয়, বরং অপরাধীদের দমনে পুলিশকে আরও বেশি তৎপর ও কৌশলগত অবস্থান নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
কল্যাণ সভায় একদিকে যেমন ছিল অপরাধ দমনে কঠোর রূপরেখা, অন্যদিকে ছিল দীর্ঘ কর্মজীবন শেষ করা সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার আবহ।
দীর্ঘ সার্ভিস শেষে অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়া সিএমপির তিন অভিজ্ঞ সদস্য-এসআই (নিরস্ত্র) উত্তম চক্রবর্তী, এটিএসআই মো. ফরিদ উদ্দিন এবং কনস্টেবল মো. কামাল উদ্দিনকে শুভেচ্ছা বার্তা ও আবেগঘন পরিবেশে সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়ে বিদায় জানান সিএমপি কমিশনার। দীর্ঘ কর্মজীবনে তাঁদের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার স্মারক হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পর্যালোচনা ও কল্যাণমূলক এই সভায় সিএমপির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, বিপিএম, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম এবং উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ।
নগরবাসীর নিরাপত্তা জোরদারে সিএমপি কমিশনারের এমন সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা নগরীতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সাধারণ নাগরিক ও সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


