হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের জীবনাবসান

বিষাদের ছায়ায় থমকে গেল বিনোদন জগত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৪৫

ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল এক ভিন্ন উত্তাপ, এক অনন্য ডায়লগ ডেলিভারি আর চরিত্রকে প্রাণবন্ত করে তোলার অনবদ্য দক্ষতা। সেই প্রতাপশালী অভিনয়শিল্পী ও গুণী চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর আর নেই।

গোয়ায় নিজ বাসভবনে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভোরের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল টানা ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচিয়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান।

তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পিতার মৃত্যুর এই করুণ খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই পুনে থেকে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তাঁর ছেলে মালহার পাটেকর।

১৯৫১ সালের ১ জানুয়ারি মহারাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা এই মহীরুহ ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে রূপালী পর্দায় পা রেখেছিলেন। এরপর আর তাঁকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে ব্যতিক্রমী ও জটিল সব চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নানা পাটেকর। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লাভ করেছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

‘পরিন্দা’, ‘ওয়াজুদ’, ‘যশবন্ত’, ‘অব তাক ছাপ্পান’, ‘রাজনীতি’ এবং বহুল প্রশংসিত মারাঠি ছবি ‘নটসম্রাট’-এ তাঁর কালজয়ী পারফরম্যান্স দর্শক মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি যেমন গম্ভীর ও কঠিন চরিত্রে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারতেন, তেমনই স্বাচ্ছন্দ্য ছিলেন নিখাদ কমেডিতেও।

‘ওয়েলকাম’ ও ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ চলচ্চিত্রে ‘উদয় শেট্টি’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় সব বয়সের দর্শককে হাসিয়েছে ও মুগ্ধ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁকে কমেডি থ্রিলার ‘হাউসফুল ৫’-এ দেখা গেছে।

শুধু রূপালী পর্দার মেকআপ আর আলোর ঝলকানিই নয়, বাস্তব জীবনেও নানা পাটেকর ছিলেন এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টে তিনি সবসময় বাড়িয়ে দিয়েছেন হাত।

বিশেষ করে মহারাষ্ট্রের ভয়াবহ খরা ও চরম আর্থিক সংকটে পরা বিধ্বস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন এবং তাঁদের পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

নানা পাটেকরের এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত শুধু একজন শক্তিশালী অভিনেতাকেই হারালো না, হারালো এক বড় মাপের মুক্তমনা মানুষকে।

তাঁর রেখে যাওয়া অমর চরিত্র ও সামাজিক অবদান চিরকাল বিনোদনপ্রেমী ও দেশবাসীর হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে। (তথ্যসূত্র: এনডিটিভি)