মুজাফরাবাদে মদ ও গাঁজার রুট বাঁচাতে অন্ধকারপ্রীতি! সড়কবাতির তার কাটছে অপরাধীরা

স্টিল ব্রিজ থেকে দত্তদের ঘাটায় তার চুরির হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫১

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ১৭ নম্বর খরনা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মুজাফরাবাদ গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় রাতের অন্ধকার দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছিল স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সবুজ সংঘ।

কয়েক কিলোমিটার সড়কে অর্ধশতাধিক আধুনিক সড়কবাতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করেন সংগঠনটির সদস্যরা।

কিন্তু যুবসমাজের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের সুফল ম্লান করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অপরাধীচক্র।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু মাদক ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে সড়কবাতির তার কেটে দেওয়ার চুরির মহোৎসব চালাচ্ছে।

তাঁদের দাবি, রাতের আঁধারে তার কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে সড়কের বিভিন্ন অংশ আবারও অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে। এতে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের আশঙ্কা বাড়ছে।

বিশেষ করে স্টিল ব্রিজ থেকে দত্তদের ঘাটা পর্যন্ত এলাকাটি চোলাই মদ, গাঁজা ও বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্যের চালান আনা-নেওয়ার নিরাপদ স্পট হওয়ায় সেখানে প্রতিনিয়ত এসব ঘটনা ঘটছে।

সবশেষ গত রবিবার রাতের আঁধারে স্টিল ব্রিজ থেকে দত্তদের ঘাটা পর্যন্ত অন্তত ৫টি সড়ক বাতির তার চুরি করে নিয়েছে মাদক কারবারিদের সক্রিয় সিন্ডিকেট।

এর আগেও স্পটটির আশে সেন বাড়ির নিজস্ব অর্থায়নে বহুবার সড়কবাতি স্থাপন করা হয়েছেলি। বার বার তার চুরির কারণে এবার সবুজ সংঘ ক্লাবের তত্ববধানে সড়কবাতি লাগানো হয়। তাতেও রক্ষা হয়নি।

তার কেটে দেওয়ার ফলে সড়কের এ অংশটুকু অন্ধকারচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় এ কদিনে আশপাশে মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা ও পরিবহনের তৎপরতা বেড়েছে।

বিশেষ করে চোলাই মদ, গাঁজা ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য আনা-নেওয়ার স্থান হিসেবে এলাকাটির কিছু অংশ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, সড়কবাতির তার কেটে নেওয়া হলে রাতের বেলায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলো আবারও অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। তাঁদের আশঙ্কা, এই সুযোগে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, নারীদের উত্ত্যক্ত করা ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হতে পারে।

গ্রামীণ এই জনপদের শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পশ্চিম পাড়ার চিহ্নিত মাদকের স্পটগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত পুলিশ টহলের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

দীর্ঘদিনের অন্ধকার দূর করতে উদ্যোগ সবুজ সংঘের
প্রায় ৫২ বছরের পুরোনো সামাজিক সংগঠন সবুজ সংঘের উদ্যোগে ৭ নম্বর পশ্চিম মুজাফরাবাদ সেনবাড়ির স্টিল ব্রিজ থেকে বণিক পাড়ার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার সড়কে অর্ধশতাধিক বাতি ও স্ট্যান্ড স্থাপন করা হয়। কয়েক দিনের স্বেচ্ছাশ্রমে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগে ব্যয় হয় লক্ষাধিক টাকা।

সংগঠনটির সভাপতি সঞ্জয় নন্দী ও সাধারণ সম্পাদক রানা সেনসহ সদস্যদের উদ্যোগে রাতের যাতায়াত সহজ করা এবং জননিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই আলোকায়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্যোগটিকে স্বাগত জানান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, প্রবীণ ও জরুরি প্রয়োজনে রাতে চলাচলকারী মানুষের জন্য সড়কবাতিগুলো স্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে।

কিন্তু সড়কবাতির সংযোগ স্থাপনের মাত্র একদিন পরেই চিহ্নিত অংশে তার চুরির অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর মতে, শুধু সড়কবাতি স্থাপন করলেই হবে না, সেগুলো সচল রাখা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম চুরি বন্ধ করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

মাদক কারবারের অভিযোগ, রাতে টহল বাড়ানোর দাবি
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টিল ব্রিজ থেকে দত্তদের ঘাটা পর্যন্ত সড়কের কিছু স্থান রাতে মাদকদ্রব্য পরিবহন ও কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে অপরাধপ্রবণতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর দাবি, পশ্চিম পাড়ার যেসব স্থানে মাদক কেনাবেচা বা পরিবহনের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও রাতের টহলের ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে সড়কবাতির তার চুরির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করবে, মাদক কারবারের অভিযোগ থাকা স্থানগুলো চিহ্নিত করবে এবং রাতে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে তার চুরির ঘটনাগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পশ্চিম মুজাফরাবাদের স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মাদক ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সড়কবাতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে রাতের চলাচলে স্বস্তি ফিরবে এবং স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগও সুরক্ষিত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি