back to top

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: না ফেরার দেশে পরিবারের তৃতীয় সদস্য

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৩:৫৭

চট্টগ্রামের হালিশহরে গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর পর না ফেরার দেশে পারি জমাল তার কিশোর ছেলে শাওন (১৬)।

মৃত্যুর এ সংখ্যাটাও বেশিক্ষণ স্থায়ীত্ব হলো না। শাওনের মৃত্যুর সংবাদটা ঠিকমতো স্বজনদের কাছে পৌছানোর আগে ৫ ঘন্টার ব্যবধানে না ফেরার দেশে পারি জমান চাচা সামির আহমেদ (৪০)।

আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান সামিরের মৃত্যুর তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ১২টার দিকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তার ইনহেলিশন ইনজুরি ছিল।

এর আগে এই আগুনের ঘটনায় নুরজাহান আক্তার রানী ও তার ছেলে মো. শাওন (১৬) মারা যান। নুরজাহান আক্তারের শরীরের ১০০ শতাংশ এবং শাওনের শরীরের ৫০ শতাংশ দগ্ধ ছিল।

এখনও ত্বকে শতভাগ পোড়ার মাত্রা নিয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়েছেন মৃত সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০) ও মৃত রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬)।

শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন সাখাওয়াতের ছোট ভাই শিপন হোসাইন (৩১)। শরীরে ব্যাপক যন্ত্রণা নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন মৃত রানীর মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০)। আইমানের শরীর পুড়েছে ৩৮ শতাংশ।

তাছাড়া ৪৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া দেহ নিয়ে মৃত সামিরের চার বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা এবং ৩০ শতাংশ পুড়ে ৬ বছরের পুত্র সন্তান ফারহান আহমেদ আনাছও হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটপট করছে।

উল্লেখ্য : সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার সময় চট্টগ্রামের হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় হালিমা মঞ্জিল নামে ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার রান্নাঘরে গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মোট ৯ জন দগ্ধ হন।

গুরুতর দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতেই ঢাকায় নেওয়া হয়েছিল। তবে পথে মারা যান ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মারা যান তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। আর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয়।

দগ্ধদের দেখতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী,যা বললেন-
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।বিস্ফোরণ

দুই মন্ত্রী এসময় বার্ন ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীনের সাথে দগ্ধদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন।

ডা. নাসির উদ্দীন মন্ত্রীদ্বয়কে আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

রোগীদের খোঁজখবর নিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস সাঈদ আল নোমানের
তাছাড়া দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।সাঈদ আল নোমান

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এই সাংসদ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি