back to top

সলিমপুরে ‘গডফাদার’ কাশেম গ্রেপ্তার, মোতালেব হত্যা তদন্তে নতুন মোড়

প্রকাশিত: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:১৯

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসের অন্ধকার জগতের এক পরিচিত নাম—‘নলা কাশেম’। অবশেষে সেই কথিত ‘গডফাদার’ পুলিশের জালে।

তার গ্রেপ্তারে র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক-ডিএডি (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সলিমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সলিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আবুল কাশেম (৪৩) নামের এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ধরা পড়ে জঙ্গল সলিমপুরের বহুল আলোচিত এই সন্ত্রাসী।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ‘নলা কাশেম’ নামেই এলাকায় বেশি পরিচিত তিনি। খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও ডাকাতিসহ অন্তত ১৫টি মামলার আসামি কাশেম দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। যা তার সক্রিয় সশস্ত্র অবস্থানেরই প্রমাণ।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কাশেম পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

এ সময় তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং আজ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।

‘নলা কাশেম’-এর গ্রেপ্তার নিঃসন্দেহে বড় অগ্রগতি। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, পালিয়ে যাওয়া সহযোগীরা কোথায়? দুই পক্ষের রক্তাক্ত দ্বন্দ্ব কি থামবে?

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসের যে শেকড় গেড়ে বসেছে, তা উপড়ে ফেলতে এই গ্রেপ্তার কতটা কার্যকর হবে। তার উত্তরই এখন শুনতে চান সলিমপুরবাসী।

উল্লেখ্য : চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে বিস্তৃত প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর এলাকা জুড়ে জঙ্গল সলিমপুর। যা বহু বছর ধরেই সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত।

সীতাকুণ্ডের অন্তর্গত হলেও নগরের সন্নিকটে অবস্থানের কারণে এটি কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল হয়ে ওঠে।

পূর্বে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ থানা-এমন কৌশলগত অবস্থান সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে আরও সহজ করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ। একপক্ষে মোহাম্মদ ইয়াসিন, অন্যপক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। অন্যদিকে রোকন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক (বহিষ্কৃত) যুগ্ম সম্পাদক।

র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার হত্যাকাণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট হামলার পেছনে এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বই মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

র‌্যাব সদস্য হত্যার পর সমালোচনার মুখে গত ২ মার্চ সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি যৌথভাবে জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালায়।

প্রথমবারের মতো বড় অপারেশনটি রক্তপাত ছাড়াই শেষ হয়, যদিও অভিযানের আগেই অনেক শীর্ষ সন্ত্রাসী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

অভিযানের পর পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় যৌথ বাহিনী এবং নিরাপত্তা জোরদারে স্থাপন করা হয় পুলিশের দুটি অস্থায়ী ক্যাম্প।