চট্টগ্রামে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
তিনি বলেছেন, এখন থেকে ভবন নির্মাণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। সরকারের পক্ষ থেকে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
একই সঙ্গে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ভবনে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মতো ইউটিলিটি সংযোগও দেওয়া হবে না।
আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। সভায় সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
জাকারিয়া তাহের বলেন, “এখন থেকে শুধু আর্কিটেকচারাল ড্রয়িং নয়, আর্কিটেকচারাল, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রোমেকানিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা একসঙ্গে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, ভবনের কাজ শেষ হওয়ার পর দেওয়া হবে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা বসবাস উপযোগী সনদ।
অনুমোদিত প্ল্যানের কোনো ব্যত্যয় ঘটলে এই সনদ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি অকুপেন্সি সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ভবনে ইউটিলিটি সংযোগও মিলবে না।
অতীতে আইন অমান্য করে গড়ে ওঠা ভবনগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস।
অতীতে কী ঘটেছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে যারা প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, তাদের কীভাবে আইনের আওতায় আনা যায়, তা খতিয়ে দেখা হবে।”
সভায় চট্টগ্রামের চলমান বড় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী।
তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো দীর্ঘদিনের প্রকল্পগুলো চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
মন্ত্রী বলেন, “হাজার হাজার কোটি টাকার এসব প্রকল্প আট-দশ বছর ধরে চলমান। অধিকাংশ প্রকল্পের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও ছোটোখাটো কিছু জটিলতার কারণে জনগণ এখনো পুরো সুফল পাচ্ছে না। এবারের চট্টগ্রাম সফরের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এসব আটকে থাকা কাজের সমাধান করা।”
তিনি জানান, চট্টগ্রাম ওয়াসার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুনের মধ্যে তাদের অংশের কাজ শেষ করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের র্যাম্পের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প প্রসঙ্গে জাকারিয়া তাহের বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের (৩৪ ইসিবি) তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পের ৯৫ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। “আশা করছি, চলতি বর্ষাতেই নগরবাসী এর সুফল পেতে শুরু করবে,” বলেন তিনি।
সিডিএর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়নের কারণে সুফল নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, “সিডিএর পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও ২১টি ছোট খাল নিয়ে কাজ করছে। এটি একটি সমন্বিত উদ্যোগ। কোথাও কোনো ত্রুটি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করা হবে।”
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



