কারা পান বিসিবির অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড? উত্তর খুঁজছে সাংবাদিক মহল

যোগ্যরা বঞ্চিত, অভিযোগ প্রভাববলয়ের

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬ ২১:২৭

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাংবাদিক অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতার অভাব, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাববলয়ের আধিপত্যের অভিযোগ তুলেছেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ক্রীড়া সাংবাদিকেরা।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর বিসিবি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা এবং পেশাদার ক্রীড়া সাংবাদিকেরা অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই কার্ড প্রদান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও তা প্রকাশ্যে খুব কমই এসেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, বিসিবির অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম কিছু ব্যক্তি নিয়মিতভাবে অ্যাক্রেডিটেশন সুবিধা পেলেও অনেক কর্মরত ও অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক আবেদন করেও সুযোগ পাচ্ছেন না।

অভিযোগকারীদের মতে, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া সাংবাদিকতা না করেও কিছু ব্যক্তি বছরের পর বছর অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড পেয়ে আসছেন।

অন্যদিকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি নিবন্ধিত গণমাধ্যমে নিয়মিত কাজ করা অনেক সাংবাদিক আবেদন করেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

চট্টগ্রামে কর্মরত একটি জাতীয় দৈনিকের এক ক্রীড়া প্রতিবেদক বলেন, “যারা নিয়মিত মাঠে কাজ করেন, সংবাদ সংগ্রহ করেন এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন, তাদের অনেকেই সুযোগ পান না।

অথচ এমন অনেককে কার্ড দেওয়া হয় যাদের মাঠে উপস্থিতি মূলত আনুষ্ঠানিকতা কিংবা ব্যক্তিগত প্রচারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”

একাধিক সাংবাদিকের অভিযোগ, কিছু অনিবন্ধিত বা কম পরিচিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধিরাও অ্যাক্রেডিটেশন সুবিধা পেয়ে থাকেন।

অথচ দীর্ঘদিন ধরে পেশাদার সাংবাদিকতায় যুক্ত অনেক গণমাধ্যমকর্মী তালিকায় স্থান পান না। ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তিদের হাতে এই দায়িত্ব থাকায় একটি প্রভাববলয় তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নতুন আবেদনকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা উচিত।”

অভিযোগের আলোচনায় বিসিবির চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন হোসেন এবং মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা মুস্তাফিজ খালুর নামও উঠে এসেছে।

কয়েকজন সাংবাদিকের দাবি, অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় তাদের প্রভাব রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য জানতে শাহীন হোসেন ও মুস্তাফিজ খালুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিকদের দাবি, অ্যাক্রেডিটেশন প্রদানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা, নির্ধারিত যোগ্যতার মানদণ্ড এবং আবেদন মূল্যায়নের পদ্ধতি প্রকাশ করা উচিত।

পাশাপাশি আবেদন বাতিল হলে তার কারণ আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

তাদের মতে, আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব না রেখে নির্দিষ্ট সময় পরপর দায়িত্ব পরিবর্তনের ব্যবস্থাও চালু করা প্রয়োজন।

এদিকে অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বিতরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, ব্যাখ্যা কিংবা অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

তবে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও চট্টগ্রামের সাংবাদিক মহলে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

ক্রীড়া সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, ক্রিকেট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা হওয়ায় এর সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিকদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

আর সে কারণেই অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক করার দাবি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি