পরীমণি ইস্যুর আলোচিত গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ১০:২০

সরকার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে।

সবশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে গত ১৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর দপ্তরে বিবেচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি দেখেছেন, তবে তখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একই সঙ্গে ঘটনাটির সত্যতাও নিশ্চিত করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া নতুন নয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’-এর বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়, দিন ও রাতে, চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় গোলাম সাকলায়েনের অবস্থানের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামতও চাওয়া হয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের জুনে। ওই সময় রাজধানীর অদূরে সাভারের বিরুলিয়া বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিত্রনায়িকা পরীমণি ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

মামলার পরদিন ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে তার কয়েকজন সহযোগীকেও আটক করা হয়।

মামলাটির তদন্ত চলাকালে পরীমণিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

পরবর্তীতে তাদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে ওঠে এবং বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

সূত্রগুলো আরও জানায়, পরীমণির সঙ্গে গোলাম সাকলায়েনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং তারা একাধিকবার একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন বলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

একই সূত্রের দাবি, সবশেষ পরীমণি রাজারবাগের মধুমতি ভবনে গোলাম সাকলায়েনের বাসায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য নতুন করে আলোচনায় আসে।

এরপর থেকেই গোলাম সাকলায়েনকে ঘিরে প্রশাসনিক অনুসন্ধান ও বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাবেক এই ডিবি কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হলো।

ফলে কয়েক বছর ধরে আলোচিত এ অধ্যায়ের প্রশাসনিক পরিণতি সামনে এলো।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি