নদীর বুকে তখন ঘুটঘুটে অন্ধকার। গভীর রাতে কর্ণফুলীর বুকে নোঙর করে থাকা একটি বিশাল অয়েল ট্যাংকার থেকে নিঃশব্দে পাইপ লাইনে নামানো হচ্ছিল হাজার হাজার লিটার ডিজেল।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই ‘অপারেশন’ সফল হওয়ার ঠিক শেষ মুহূর্তে হানা দিল নৌ পুলিশ। ভেস্তে গেল কোটি টাকার তেল চুরির মিশন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ নম্বর ভেসেল পয়েন্ট জেটিসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তেল চুরির এই চক্রটিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে সদরঘাট নৌ পুলিশ।
আরও পড়ুন
অভিযানে অয়েল ট্যাংকার থেকে চুরি করা প্রায় ১২ হাজার ৭০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে।
নৌ পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ চোরাই জ্বালানির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
নদীর বুকে অন্ধকারের এই কারবারে জড়িত থাকার অপরাধে ঘটনাস্থল থেকেই ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— আরিফুল ইসলাম (৩০), সাইদুল ইসলাম ওরফে ইশাদ (২২), মো. আব্দুল হালিম (৩৫), মো. নুরুল মোস্তফা (২৬), জালাল আহমদ (৬০) ও মো. নুরুল আমিন (৫০)।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে ও সংঘবদ্ধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধের সাম্রাজ্য চালাচ্ছিল।
বড় বড় অয়েল ট্যাংকার থেকে রাতের আঁধারে তেল সরিয়ে তা কালোবাজারে বিক্রি করাই ছিল এদের মূল কাজ।
“গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের সহায়তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কর্ণফুলী নদী ও এর আশপাশের এলাকায় চোরাই ডিজেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত।” — মো. মিজানুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সদরঘাট নৌ থানা।
এই চক্রের শিকড় কতদূর তা খুঁজে বের করতে ইতিমধ্যেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সদরঘাট নৌ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মোজাম্মেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আটক ছয়জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও দু-একজনকে আসামি করা হয়েছে।
কর্ণফুলীর বুক চিড়ে চলা এই চোরাকারবারি চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

