জুলাইয়ের স্মৃতি অবমাননার অভিযোগ: আইনি বেড়াজালে শাওন, মাহি ও শান্তা

প্রকাশিত: ০৪ জুলাই, ২০২৬ ১৫:৩৮

ইতিহাসের যে অধ্যায়টি রক্ত আর আত্মত্যাগে লেখা, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি বা অবমাননা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

ঠিক এমন একটি পটভূমিতে জুলাই আন্দোলন ও শহীদদের আত্মত্যাগকে অবমাননা এবং অপপ্রচারের অভিযোগে দেশের বিনোদন অঙ্গনের দুই পরিচিত মুখসহ তিন নারীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন—জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি এবং শান্তা ফারজানা নামে এক নারী।

গত শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই লিখিত অভিযোগ জমা দেন।

থানায় অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ডিউটি অফিসার) উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর প্রতিনিধিরা তাঁদের লিখিত আবেদনে দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুলাই আন্দোলন এবং এই আন্দোলনে শহীদদের গৌরবময় আত্মত্যাগ নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অনন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

সাধারণ মানুষের আবেগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অবমাননাকর প্রচারণা চালিয়েছেন, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

ভিডিও ঘিরে তুমুল বিতর্ক অভিযোগের তালিকায় থাকা শান্তা ফারজানার বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, তিনি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে জুতা নিক্ষেপ বা আঘাত করছেন।

এই ভিডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্মৃতিস্তম্ভের মতো একটি পবিত্র ও আবেগের জায়গায় এমন আচরণ দেশের আপামর জনতার অনুভূতিতে বড় আঘাত হেনেছে।

দেশের একটি ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতিকে সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—তা নিয়ে এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে এই তিন নারীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা কতটুকু প্রমাণিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি