বাংলাদেশ এখন বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেট এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
শনিবার সকালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সংক্ষিপ্ত সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এভাবেই আশাবাদ ব্যক্ত করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান ‘লজিস্টিক্যাল হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ভৌগোলিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবারের বাজেট কেবল প্রথাগত কোনো হিসাবনিকাশ নয়, বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুপ্ত সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
বিশেষ করে চট্টগ্রামের সমুদ্রবন্দর ও আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে বাজেটে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি বিশাল ‘ফ্রি জোন’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর পাশাপাশি:
- চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণ করা হবে।
- শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের অন্যতম আঞ্চলিক হাবে রূপান্তর করা হবে।
- একটি বিশেষায়িত ‘চাইনিজ ইকোনমিক জোন’ গড়ে তোলার উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের আভাস দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মেগা পরিকল্পনা বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে।
এছাড়াও, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে বড় পরিসরের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বন্দরগুলোর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক করিডর আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত খোলামেলা কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে, যার ওপর আবার ভর করেছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব।
তবে সরকারের কৌশল অত্যন্ত স্পষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা। এরপরই আমরা পুরোদমে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করব।
এগুলো দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, সময় কিছুটা লাগবে। তবে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করতে বদ্ধপরিকর।”
মন্ত্রী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধির ধারা পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় ধীরে ধীরে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি’র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

