চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই শিক্ষাঙ্গনে বইছে চরম অস্থিরতা ও আলোচনার ঝড়।
২০১০ সালে সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে গত ১৯ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে করুণ ফল দেখেছে এই বোর্ড-পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৫৯.৪৮ শতাংশে। ফেল করা ৫২ হাজার ৭৬৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে সিংহভাগই হোঁচট খেয়েছে ইংরেজি ও গণিতের কঠিন দেওয়ালে।
ফলাফল মেনে নিতে না পেরে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন ক্ষুব্ধ ও হতাশ পরীক্ষার্থী একযোগে ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ঠুকে দিয়েছে। যার সিংহভাগই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলোতে।
সংখ্যাতত্ত্বে চট্টগ্রাম বোর্ডের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের ছবি:
| বিষয় | আবেদনের সংখ্যা / তথ্য |
| মোট পরীক্ষার্থী (উপস্থিত) | ১,৩০,২১৯ জন |
| মোট কৃতকার্য / অকৃতকার্য | ৭৭,৪৫৩ জন পাস / ৫২,৭৬৬ জন ফেল |
| মোট পুনর্নিরীক্ষণ আবেদন | ১,১৪,৭০৬টি (শিক্ষার্থী: ৩৯,৭৯৮ জন) |
| ইংরেজি (১ম ও ২য় পত্র) | ২০,৪০০টি আবেদন (অকৃতকার্য: ৩৫,৮৭৬ জন) |
| গণিত | ১৩,৮২৮টি আবেদন (অকৃতকার্য: ২৫,৭৮৩ জন) |
| বাংলা | ৭,৭৭১টি আবেদন |
| অন্যান্য বিষয় (পদার্থ, জীববিজ্ঞান, রসায়ন, উচ্চতর গণিত) | ২০,৩৫৭টি আবেদন |
এবার শুধু যোগের ভুল নয়, হচ্ছে খাতা পুনর্মূল্যায়ন
বিগত বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ বলতে বোঝানো হতো কেবল প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগ ঠিক আছে কি না বা কোনো প্রশ্নে নম্বর বাদ পড়েছে কি না তা দেখা। কিন্তু মূল্যায়নের ভুল ধরে নতুন নম্বর দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
এ বছর এই ধারায় এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবার শুধুই নম্বর গণনায় সীমাবদ্ধ থাকছে না, মূল্যায়নে কোনো ঘাটতি বা ভুল ছিল কি না তা নিবিড়ভাবে পুনর্মূল্যায়ন (Re-evaluation) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সামলাতে বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রায় ২৮৭ জন অভিজ্ঞ পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশই ইংরেজি ও গণিত বিষয়ের।
চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উত্তরপত্র মূল্যায়নে কোনো ভুল হয়েছিল কি না-তা গভীরভাবে যাচাই করার সুযোগ এবারই প্রথম নিশ্চিত করা হয়েছে।
পার্বত্য ও উপকূলীয় পাঁচ জেলা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাধীন ১,২৬৮টি বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভাগ্য এখন ঝুলে আছে এই পুনর্মূল্যায়নের ওপর। ভুল সংশোধনে কতোজনের ভাগ্য খোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

