পরিবেশের বুক চিরে প্লাস্টিক আর পলিথিনের আগ্রাসন ঠেকাতে দেশজুড়ে চলছে নানা তৎপরতা। কিন্তু আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নগরের আনাচে-কানাচে এখনো অবাধে বিক্রি হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগ।
এমনই এক গোপন কারবারের খোঁজ মিলেছিল চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানার জেল রোড এলাকায়। অবশেষে সেই পলিথিনের দুর্গে হানা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার (৫ জুলাই) জেল রোড এলাকায় পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে দুটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ২৬৫ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন।
একই সঙ্গে পরিবেশ বিধ্বংসী এই কর্মকাণ্ডের দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
‘খাজা’ ও ‘বাগদাদ’ এ মিললো নিষিদ্ধ পলিথিন
পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও মো. আল মামুন।
আদালত সূত্র জানায়, জেল রোডের ‘খাজা পলি মার্ট’ এবং ‘বাগদাদ পলি স্টোর’ নামের দুটি দোকানে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন বিক্রি, প্রদর্শন ও মজুদ করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সেখানে ঝটিকা অভিযান চালাতেই বেরিয়ে আসে পলিথিনের স্তূপ। অপরাধ হাতেনাতে প্রমাণিত হওয়ায় দুটি মামলায় মোট ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
তবে জরিমানার অঙ্কের চেয়েও বড় ধাক্কা ছিল জব্দকৃত ২৬৫ কেজি পলিথিন, যা কোনো না কোনোভাবে এই নগরের পরিবেশকে বিপন্ন করতে পারতো।
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিদর্শক রুম্পা শিকদার।
তিনি জানান, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এই পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাময়িক এই জরিমানা বা জব্দ করাই শেষ কথা নয়।
চট্টগ্রাম মহানগরীকে পলিথিনমুক্ত করতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মাত্র ৩ হাজার টাকা জরিমানা হয়তো ব্যবসায়ীদের জন্য সামান্য, কিন্তু ২৬৫ কেজি পলিথিন জব্দ হওয়াটা প্রকৃতির জন্য এক বিশাল স্বস্তি।
আমাদের অসচেতনতা আর সস্তা সুবিধার খোঁজে যে পলিথিন আমরা ঘরে তুলছি, তা-ই একদিন ড্রেন-নালা বন্ধ করে নগরকে ডুবিয়ে দিচ্ছে।
আইন দিয়ে পলিথিন বন্ধের পাশাপাশি আমাদের নিজেদেরও একটু সচেতন হওয়া উচিত বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

