দেশের বাজারে সোনার দাম আরও এক দফা কমেছে। গত সোমবারের পর আজ বৃহস্পতিবারও ভালো মানের সোনার দাম বড় ব্যবধানে কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা। সোনার পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে রুপার দামেও।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সোনা ও রুপার এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত সোমবারও ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল। ফলে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিতে মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমল।
বাজুসের নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, আজ থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। দাম কমার আগে এর মূল্য ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ২৯০ টাকা।
অন্যান্য মানের সোনার ক্ষেত্রেও দাম আনুপাতিক হারে কমেছে: ২১ ক্যারেট ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমে নতুন দাম হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা (আগে ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা)।
১৮ ক্যারেট ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমে এখন বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকায় (আগে ছিল ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা)।
এবং সনাতন পদ্ধতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকায় (আগে ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা)।
সোনার বাজারে এই বড় পতনের দিনে ক্রেতাদের জন্য আরেকটি সুখবর এনেছে রুপার বাজার। নতুন সমন্বয় অনুযায়ী, বাজারে আজ থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা।
ভ্যাট নিয়ে নতুন নিয়ম: দিতে হবে না বাড়তি টাকা
বাজুস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সোনার চূড়ান্ত দামের সঙ্গেই ভ্যাট যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সোনার গয়না কেনার সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে কোনো ভ্যাট আদায় করতে পারবেন না ব্যবসায়ীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে সোনার ওপর ভ্যাট কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আগে যেখানে মোট দামের ওপর ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হতো, এখন তা কমিয়ে প্রতি ভরি সোনার গয়নার ওপর স্থায়ীভাবে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন এই দরপতন?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ক্রমাগত হ্রাস পাওয়ার কারণেই দেশীয় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তবে বরাবরের মতোই বাজুস নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে পাকা সোনা বা তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম কমে যাওয়ার কারণেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
টানা দুই দফায় দাম কমায় বিয়ের মৌসুমে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

