দাদার পেছনে পেছনে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছিল তিন বছরের শিশু মোহাম্মদ মোস্তাকিম। উদ্দেশ্য ছিল বড়জোড় চকলেট কিংবা প্রিয় কোনো খেলনা নিয়ে বাড়ি ফেরা।
কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে সেই দোকানে আর যাওয়া হলো না তার। সড়কের পাশের উন্মুক্ত নালার তীব্র স্রোত কেড়ে নিল অবুঝ শিশুটির প্রাণ।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মোস্তাকিম ওই এলাকার মোহাম্মদ পারভেজ হোসেনের ছেলে। চার দিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল ও নালার তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে অকালেই ঝরে যায় ফুটফুটে এই শিশুটি।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্ধ্যায় দাদা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে দোকানে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়েছিল মোস্তাকিম। সে দাদার অলক্ষ্যে তাঁর পেছনে পেছনে হাঁটছিল।
একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সড়কের পাশে পানি চলাচলের জন্য তৈরি উন্মুক্ত নালার তীব্র স্রোতে পড়ে যায় সে। মুহূর্তের মধ্যেই পানির টানে কিছুদূর ভেসে যায় শিশুটি।
বেশ কিছুক্ষণ পর স্থানীয় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নালায় শিশুটিকে ভাসতে দেখে চিৎকার করে ওঠেন এবং তাকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে মোস্তাকিমকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডাবুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইয়াছমিন আকতার গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “শিশুটি তার দাদার পিছু পিছু একটি দোকানের দিকে যাচ্ছিল। চার দিনের টানা বৃষ্টির কারণে নালায় তখন প্রচণ্ড স্রোত ছিল।
অসাবধানতাবশত শিশুটি নালায় পড়ে গিয়ে ভেসে যায়। আমি ঘটনাটি জানার পর আমার নিজস্ব গাড়িতে করেই তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য, আমরা আর তাকে বাঁচাতে পারলাম না।”
এদিকে মোস্তাকিমের এই আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে ডাবুয়ায় বাতাস।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বর্ষাকালে রাউজানের নালাগুলো যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়।
শিশুদের সুরক্ষায় বাড়ির চারপাশ এবং উন্মুক্ত নালাগুলোর বিষয়ে এখনই আরও বেশি সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

