আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন ফের নামঞ্জুর

প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৫:০৫

চট্টগ্রাম নগরীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত।

গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে নিজের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

বিচারক মনোযোগ দিয়ে তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শুনানিকালে চার্জশিটভুক্ত অন্যতম আসামি ইসকন অনুসারী সংগঠন ‘সনাতনী জাগরণ জোট’ এর মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় অন্য আসামিদের কারাগার থেকে সশরীরে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, ওই দিনের রক্তক্ষয়ী তাণ্ডবের বিবরণ দেওয়ার সময় আইনজীবী শহিদুল আলম রাহাত তীব্র আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তাঁর এই অশ্রুসিক্ত জবানবন্দি চলাকালে উপস্থিত আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মাঝে এক বেদনাঘন আবহের সৃষ্টি হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁকে জেরা করা শুরু করেন।

এপিপি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী আরও জানান, আসামিপক্ষ থেকে সময় প্রার্থনা করায় আদালত শুনানি স্থগিত করে আগামী ২০ আগস্ট জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

একই সঙ্গে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর করা জামিন আবেদন শুনানির পর পুনঃরায় নামঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালতের নথি ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একপর্যায়ে উসকানিমূলক সংঘর্ষের জেরে আদালত চত্বরের অদূরেই উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর দিন নিহত আলিফের পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১ জুন সিএমপির কোতোয়ালি জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহফুজুর রহমান আদালতে এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

তদন্তে অপরাধের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়ায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

নিহত আইনজীবী আলিফের স্বজন ও সহকর্মীরা এখন বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রহর গুনছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি